বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:অথৈজল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
অথৈজল
৭০

 ওই অপরিচিতা বালিকাটি আমার মুখের দিকে চেয়ে আছে, এতে আমার আনন্দের কারণ কি? কে বলবে।

 সেই আনন্দে অদ্ভুত মুহূর্ত্তে আমার মনে হোল, আমি সব যেন বিলিয়ে দিতে পারি, যা-কিছু আমার নিজস্ব আছে। সব কিছু দিয়ে দিতে পারি। সব কিছু। তুচ্ছ পরসা, তুচ্ছ টাকাকড়ি।

 সেই মুহূর্ত্তে দুটাকা প্যালা হাত বাড়িয়ে দিতে গেলাম, মেয়েটি সাবলীল ভঙ্গীতে আমার সামনে এসে আমার হাত থেকে টাকা দুটি উঠিয়ে নিলে। আমার হাতের আঙুলে ওর আঙুল ঠেকে গেল। আমার মনে হোল ও ইচ্ছে করে আঙুলে আঙুল ঠেকালে। অনায়াসে টাকা দুটি তুলে নিতে পারতো সন্তর্পণে।

 চোখ বুজে চুপ করে খানিকক্ষণ বসে রইলাম।

 হঠাৎ এই খেমটার আসর আমার কাছে অসাধারণ হরে উঠলো! আমার সাধারণ অস্তিত্ব যেন লোপ পেয়ে গেল। আমি যুগযুগান্ত ধরে খেমটা নাচ দেখচি এখানে বসে। আমি অমর, বিজর বিশ্বে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই। যুগযুগান্ত ধরে ওই মেয়েটি আমার সামনে এসে অমনি নাচ্চে।

 এর অঙ্গুলির স্পর্শে আমার অতি সাধারণ একঘেয়ে, বৈচিত্র্যহীন জীবন ভূমার আনন্দ আস্বাদ করলে। অতি সাধারণ আমি অতি অসাধারণ হয়ে উঠলাম। আরও কি কি হোল, সেসব বুঝিয়ে বলবার সাধ্যি নেই আমার। আমি গ্রাম্য ডাক্তার মানুষ এ গ্রামে ও গ্রামে রুগী দেখে বেড়াই, সনাতনদা’র সঙ্গে