পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


చన অরক্ষণীয়া -1 fমার যে কোনমতেই আসা উচিত ছিল না । যতই কষ্ট হোক, সব সহ্য করিয়াই ত সেখানে আমাদের পড়িয়া থাকা উচিত ছিল। কাগজখানি অপূৰ্ব মমতার সহিত মুঠার মধ্যে নাড়াচাড়া করিতে করিতে কত কথাই ° জি তাহার মনে পড়িতে লাগিল। স্বামীর মৃত্যুশয্যায় অতুলের প্রতিজ্ঞ, সেই চুড়ি দু’গাছি দিবার ছলে মহাপ্ৰসাদ লইয়া আসা, বিশেষ ক{ািরয়া আসিবার দিনটায় মাসির সহিত তাহার কলহ । এ-কথা তাহার ম৷ শুনিয়াছেন, পাড়ার লোকে শুনিয়াছে - এতদিনে সলাই জানিয়াছে কেন সে কলিকাতা হইতে দুটিয়া আসিয়াছিল। আনন্দে, গর্বে তাহাব মাতৃবক্ষ পরিপূর্ণ হইয়া উঠিল। মনে মনে বলিলেন, কালো মেয়ে। আমার কালো মেয়ের গৌরব দেখুক সবাই । ওরে, কোকিলেও কালো, ভোমরাও কালো যে ! ডাকিলেন, জ্ঞানদা, এখন কেমন আছিস্ মা ? उलोंढ्ल उष्मांछिं भी । হাঁ রে, আমার কথা অতুল কিছু লিখেচে ? পড়ে দেখা না ! কৌতুহল আর তিনি সামলাইতে পারিলেন না, জানালার কাছে কাগজখানি মেলিয়া ধরিলেন অতবড় কাগজের মধ্যে মাত্র দুইছত্ৰ লেখা দেখিয়া প্ৰথমটা তাহার মনে হইল, মেয়ে কি দিতে হয়ত কি দিয়াছে। পরীক্ষণেই ‘শ্ৰীচরণেষু পাঠ করিয়া মনে মনে হাসিয়া বলিলেন, তাইতেই পড়তে দিয়েচে-এ যে আমারই চিঠি ! লেখা আছে, সেই সময়েই বলিয়াছিলাম, ও জায়গা ম্যালেরিয়ার ডিপো ! জ্ঞানদাব জ্বর শুনিয়া দুঃখিত হইলাম-আশা করি শীঘ্রই আরোগ্য হইয়া যাইবে । আমরা ভাল আছি। আমার প্রণাম গ্ৰহণ করিবেন । ইতি দুর্গার কথাটা জিজ্ঞাসা করিতে একটু বাধিল, কিন্তু মায়ের প্রাণ --না জিজ্ঞাসা করিয়াও থাকিতে পারিলেন না ; কাছে বসিয়া মেয়ের রুক্ষ চুলগুলি আঙ্গুল দিয়া নাড়িতে নাড়িতে আস্তে আস্তে বলিলেন, হাঁ মা, তোমার চিঠিটার মধ্যে বুঝি অতুল রাগ করেচে ?