পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SR অশনি-সংকেত গঙ্গাচরণ হেসে বললে-আসলে তুমি চা তৈরী করতে জান না। তাই বলো ! অনঙ্গ মখভঙ্গি করে বললে-আহা-হা ! -পারো চা করতে ? কোথায় করলে তুমি ? অনঙ্গ এক ধরনের হাঁসলে, যার মানে হচ্ছে, আর ভান করে কি করবো ? গঙ্গাচরণ বললে-কেমন ধরে ফেলেচি, কিনা ? অর্ণাঙ্গ প্রত্যুত্তরে আর একবার হেসে বললে-না করি, করতে দেখোঁচি তো । বাসদেবপরে চকস্ত-বাড়ী চা খেতে সবাই। আমি গিাষীর কাছে বসে বসে দেখতাম না বঝি ? গঙ্গাচরণ পাশের গ্রামে যখন মাঠের পথ দিয়ে বেরিয়ে গেল তখন বেলা বেশ পড়ে এসেচে। সারাদিনের তাজা খর রোদে উল ও কাশীবনে কেমন সন্দের একটা সোঁদা গন্ধ। শীতও আজ পড়েচে মন্দ নয় । একটা লোক খোঁজার গাছে মাটির ভাঁড় নিয়ে উঠচে দেখে গঙ্গাচরণ ডেকে বললে-বলি ও ছিদাম, একদিন খোজাের-রস খাওয়াও বাবা । লোকটা গাছের ওপর থেকেই বললে-গরমশায় ? কাল সকালে পেটিয়ে দেবেন। একটা ছেলে । এক ভাঁড় যেন নিয়ে যায় গঙ্গাচরণের মনে যথেস্ট আনন্দ ও সন্তোষ এই ভেবে যে, কেউ তার কথা এখানে ঠেলতে পারে না । সবাই মানে, যার কাছে যে জিনিস চাওয়া যায়, কেউ দিতে অস্বীকার করে না । বাসদেবপারে এমন ছিল না, ভাতছালাতেও না । পাশের গ্রামের কোনো নাম নেই-‘পশ্চিমপাড়া’ বলে সবাই । এর একটা কারণএসব গ্রাম আজ কয়েক বৎসর হল বসেচে। আগে এসব পতিত মাঠ বা অনাবাদী চর ছিল, এদেশের ঢাষাদের জমির অভাব ছিল না, তাদের মধ্যে কেউ এসে সব জঙ্গল ও নলখাগড়া ভরা পতিত জমিতে চাষ করতে রাজী নয়। অন্য জেলা থেকে কপালী জাতীয় চাষীরা এসে এই অনাবাদী চরে সোনা ফলিয়েচে, এরাই নতুন গ্রামগলো বসিয়েচে-গ্রামের নামকরণ q२ान्i७ श्क्ष निा । পশ্চিমপাড়াতে ঢুকেই গ্রামের মন্ডপ ঘর। বিকেলে দ-পাঁচজন লোক এখানে বসে তামাক পোড়াচ্চে । একজন গঙ্গাচরণকে দেখে বললে-ফি, মনে করে দাদাঠাকুর : পেরিণাম হই । আসনেগঙ্গাচরণ ভড়ং দেখাবার জন্যে ফতুয়ার নিচে থেকে পৈতেটা বার করে আঙিলে জড়িয়ে হাত তুলে বললে-জয়সতু । তারপর বসে একবার এদিকওদিক তাকিয়ে বললে-“এটা বেশ ঘরখানা করেচি তো ? পজো হয় ? দলের মধ্যে একজন গঙ্গাচরণকে তামাক খাওয়াবার জন্যে কলাপাত আনতে ছািটলো । একজন বললে-পজো হয় নি। দাদাঠাকুর । সামনের বারে করবার ইচ্ছে আছে-সাচ্ছা, আপনি পারবেন দাদাঠাকুর ? গঙ্গাচরণ অবজ্ঞাসাচক হাঁসি হেসে চুপ করে রইল, উত্তর দিলে না ; ওতে পিসাের থাকে না ! ওদের মধ্যে আর একজন পবেরি লোকটিকে ধমক দিয়ে বললে-জনিস নে শনিস নে কথা বলতে যাস-ওই তো তোর দোষ। উনি জানেন না পড়জো কত্তি তো কে করবে ? উনি নেকাপড়া জানা পন্ডিত মানষ ।