পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিন্তু জীবিত ভঁাহাকে দেখে নাই। তিনি দেখা না দিলে দেখিবেই বা কেমন করিয়া ? তিনি নিজের ঘোমটা নিজে না খুলিলে খুলিবে কে ? একজন মাত্র সক্ষম। তিনি ভূতভাবন ভূতপতি। তঁহারই হাত দিয়া মা নিজের ঘোমটা নিজেই খোলাইয়া সেই অবগুণ্ঠন অপসারণের প্রণালী তাঁহারই মুখ দিয়া বলাইয়াছেন। উহাই তমের কুলাচার । 'জীবঃ প্ৰকৃতি তত্ত্বঞ্চ দিককালাকাসমেবচ ক্ষিত্যাপ্তেজো বয়বশ্চ কুলমিত্যাভি ধীয়তে ।” জীব, প্ৰকৃতিতত্ত্ব, দিক, কাল, আকাশ, ক্ষিতি, অপ তেজ ও বায়ু-এই সকলের নাম কুল। ইহাকে কুল বলিব কি অকুল বলিব তাহা বুঝিতে পারিন—তবে একথা নিশ্চিত যে ইহাই মায়ের ঘোমটা খোলা ছবি--ইহারই অভ্যন্তরে আব্ৰহ্মাস্তম্ব পৰ্য্যন্ত সকলই নিহিত । “ব্ৰহ্মবুদ্ধ্যা নিৰ্বিকল্পমেতেঘাচরণঞ্চ যৎ কুলাচার স এবাদ্যে ধৰ্ম্মকামার্থ মোক্ষদঃ ।” ব্ৰহ্মবুদ্ধিতে এই সকলের ভাবনারই নাম কুলাচার। পঞ্চতত্ত্বের দ্বারা তত্ত্বময়ী কুলেশ্বরীর অৰ্চনা করিয়া যেদিন সাধক কুলাচারে সিদ্ধ হন সেদিন তাহার জীবত্ব ঘুচিয়া শিবত্ব লাভ হয়। সেদিন তঁহার সুখের হাট এবং দুঃখের মেলা উভয়েরই অবসান ঘটে এবং মেঘের কোলে বিদ্যুতের মত “যতো বাদে নিবৰ্ত্ত্যন্তে অপ্ৰাপ্য মনসা সহ’ সেই অদ্বৈত তত্ত্বে তার ত্বৈতপ্ৰপঞ্চালীন হইয়া যায়। ১৩১১ সালে প্ৰকাশিত হরিমোহন মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “বঙ্গভাষায় লেখক প্ৰথম ভাগ’ গ্রন্থে চন্দ্ৰনাথ বসুর সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী প্ৰকাশিত হইয়াছিল। তা হুবহু मिcभ eछुड श्न সন। ১২৫১ সালের ১৭ই ভাদ্র হুগলী জেলার শ্ৰীরামপুর মহকুমার অধীন হরিপাল থানার অন্তৰ্গত কৈকালা গ্রামে আমার জন্ম হয়। আমার পিতা ৬/সতীনাথ বসু, পিতামহ ৬/কাশীনাথ বসু। ধৰ্ম্মনিষ্ঠ ক্রিয়াবান হিন্দু বলিয়া সে অঞ্চলে আমাৰ পিতামহের বড় প্ৰসিদ্ধি ছিল । পিতৃদেবকে পিতামহের পদাঙ্কানুসরণ করিতে দেখিয়াছি। আমি তাহদের কাহারও পদাঙ্কানুসরণ করিতে পারি নাই । হুগলী, বৰ্দ্ধমান প্ৰভৃতি ভাগীরথীর পশ্চিমকুলস্থিত জেলা সকল তখন অতিশয় স্বাস্থ্যকর স্থান ছিল ৷ কলিকাতায় পীড়া হইলে, আমরা গ্রামে চলিয়া যাইতাম, এবং বিনা চিকিৎসায় তথায় সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য লাভ করিতাম। এবং মহোল্লাসে খাইয়া খেলাইয়া বেড়াইতাম। স্কুল কলেজের ছুটী হইলেই দেশে যাইতাম, সেখান হইতে আর ফিরিয়া আসিবার ইচ্ছা হইত না, ছুটী ফুৱাইলে একমাস দেড় মাস পরে