পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এত বেশী অধ্যয়ন করিয়াছিলেন–বিভিন্ন ভাষায় এমন পাণ্ডিত্য লাভ করিয়াছিলেন, তাহার প্রধান কারণ, তিনি মেনহিলের নিজন গহে বাস করিবার সষোগ লাভ করিয়াছিলেন। তাঁহার চরিতকারের ভাষায়, লন্ডনে যাইবার পবে, “ইংলণ্ড ও স্কটলণ্ডে তাঁহার সমবয়স্ক এমন কেহ ছিল না, ষে তাঁহার মত এত বেশী পড়াশনা করিয়াছে অথচ বহিজগতের সঙ্গে যাহার এত কম পরিচয় ছিল। ইতিহাস, কাব্য, দর্শনশাস্ত্রে তিনি প্রগাঢ়রপে অধ্যয়ন করিয়াছিলেন। ফরাসী, জামান ও ইংরাজী সাহিত্য তথা সমগ্র আধুনিক সাহিত্যের সম্বন্ধে তাঁহার যেমন গভীর জ্ঞান ছিল, তাঁহার সমবয়স্ক আর কোন ব্যক্তিরই তেমন ছিল না।” আমি আমার অধ্যয়ন কাৰ্যকে পবিত্র বলিয়া মনে করি। কিন্তু ইহার পবিত্রতা রক্ষা করা অনেক সময় কঠিন হইয়া পড়ে। যখন কেহ অধ্যয়ননিমগ্ন আছেন, অথবা কোন সমস্যা গভীরভাবে চিন্তা করিতেছেন—তখন তাঁহার কাজে ব্যাঘাত জন্মাইতে আমাদের দেশের শিক্ষিত লোকেরাও বিধা করেন না। মেকলের প্রগাঢ় অধ্যয়নসপহার কথাও এখানে উল্লেখ করা যাইতে পারে। “সাহিত্য আমার জীবন ও বিচারবন্ধিকে রক্ষা করিয়াছে। সকাল পাঁচটা হইতে নয়টা পৰ্যন্ত (তাঁহার কলিকাতা বাস কালে) এই সময়টা আমার নিজস্ব— এখনও আমি ঐ সময়ে প্রাচীন সাহিত্য পাঠ করিয়া থাকি।” কিন্তু এইরুপ কঠোর সাধনা আমার পক্ষে অসম্ভব। আমার ইচ্ছা থাকিলেও এরুপ করিবার শক্তি আমার নাই। আমার ಇ , ಾ ಣ ಾ” * * * * *ಕಣ ना | মাধ্যাকৰ্ষণ তত্ত্ব আবিস্কার করিবার সময়ে নিউটন প্রায় ভাবোমাদ অবস্থায় ছিলেন। যদি লোকে সেই সময়ে তাঁহাকে ক্ৰমাগত বিরক্ত করিত, তবে অবস্থা কিরুপ হইত, কল্পনা করাও কঠিন। কোলরিজ এ বিষয়ে তাঁহার তিক অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। একসময়ে তিনি ভাবমন্ধে অবস্থায় “কুবলা খাঁ অথবা একটি স্বপ্নদশ্য" নামক প্রসিদ্ধ কবিতার দই তিনশত ছত্ৰ মনে মনে রচনা করেন। তন্দ্রা হইতে জাগিয়া তিনি কাগজে সেই ছত্রগুলি লিপিবদ্ধ করিতেছিলেন, এমন সময় অন্য কাজে তাঁহার ডাক পড়িল এবং সেজন্য তাঁহাকে একঘণ্টারও অধিক সময় ব্যয় করিতে হইল। ফিরিবার সময় লিখিতে বসিয়া তিনি দেখেন যে, সবনের কথা তাঁহার মাত্র অস্পষ্টভাবে মনে আছে। এমাসন গভীর ক্ষোভের সঙ্গে বলিয়াছেন—“সময় সময় সমস্ত পথিবী যেন ষড়যন্ত্র করিয়া তোমাকে তুচ্ছ তুচ্ছ বিষয়ে বন্দী করিয়া রাখিতে চায়।......এই সব প্রবঞ্চিত এবং প্রবঞ্চনাকারী লোকের মন যোগাইয়া চলিও না। তাহাদিগকে বল—হে পিতা, হে মাতা, হে পত্নী, হে ভ্রাতা, হে বন্ধ, আমি তোমাদের সঙ্গে এতদিন মিথ্যা মায়াময় জীবন যাপন করিয়াছি। এখন হইতে আমি কেবল সত্যকেই অনুসরণ করিব।” (২) লোকে যেরপে অবস্থার মধ্যে থাকে, তাহারই সঙ্গে সামঞ্জস্য করিয়া লইতে হয়, ব্যথা উত্তেজিত বা বিরক্ত হইয়া লাভ নাই। বহলোক আমার সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করিতে আসেন। ইহাদের মধ্যে অধিকাংশই যবেক। তাঁহারা আমার নিকট নানা বিষয়ের সংবাদ ও পরামর্শ চান। কিরাপে জীবিকা সংগ্ৰহ করিবেন, সেজন্যও উপদেশ চাহেন। ইহার উপর ভারতের সমস্ত অঞ্চল হইতে আমার নিকট বহল চিঠিপত্র আসে এবং পত্রলেখকেরা অনেক সময় (২) মাসোলিনী যখন লিখেন, তখন কেহ তাঁহাকে বিরক্ত করিবে, এ তিনি ইচ্ছা করেন না।... তিনি যে ইহাতে কিরাপ কন্ধ হন, তাহা রসাটোর একটি বর্ণনায় বঝো যায়। তাঁহার (মাসোলিনীর) লিখিবার টেবিলের উপর ২o রাউন্ডের একটি বড় রিভলভার এবং একখানি চকচকে ধারালো বড় ছরি থাকে। কালির আধারের উপর একটি ছোট রিভলভার থাকে। * * কেহই এখানে আসিতে পারবে না, যদি কেহ আসে তাহাকে গলি করিয়া মারিব।”