পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩-১৫ মিনিটের সময় খোলা প্রাঙ্গণে একটি সভায় বস্তৃতা করিলাম। ৩-৪৫ মিনিটের সময় ফিরিয়া আসিলাম। ৪টা—৫টা—বিশ্রাম অর্থাৎ ‘ক্রমওয়েল'-এর জীবনী পড়িলাম। ৫-৩০টায় মহাত্মাজীর নিকট তাঁহার সাফল্য সামনা করিয়া তার করিলাম। তার পরেই “শিক্ষা-মন্দিরে” গিয়া উদ্বোধন কাষ সম্পন্ন করিলাম। ৭টায় ময়দানে যাই এবং রাত্রি সাড়ে আটটা পৰ্যন্ত থাকি। দেখা গিয়াছে, বহর প্রসিদ্ধ ব্যক্তি (৩) এবং গ্রন্থকার ১o ॥১৫ ঘণ্টা অক্লান্তভাবে কাজ করেন, তারপর আবার কিছুকাল নিক্ৰিয় হইয়া বসিয়া থাকেন। কিন্তু এইরুপ সাময়িক উত্তেজনাবশে কাজ করা আমার পক্ষে কোনদিনই প্রীতিপ্রদ নহে। আমি যাহা কিছু করিয়াছি,—ধীরে ধীরে নিয়মিত পরিশ্রমের দ্বারাই করিয়াছি। গলেপর কচ্ছপ তাহার অক্লান্ত ধীর গতির দ্বারাই খরগোসকে পরাস্ত করিতে পারিয়াছিল। কোন গভীর বিষয়ে অধ্যয়ন বা রচনা, অনেকদিন আমি খবে সকালেই শেষ করিয়াছি—যে সময়ে যুবকেরা সতপত শয্যা ত্যাগ করিয়া উঠিবার মত শক্তি সঞ্চয় করিতে পারেন না। আমি সাধারণতঃ ৫টার সময় উঠি—তারপর দ্রতপদে একট ভ্রমণ এবং কিছু লঘু জলযোগের পর ৬টার সময় পড়িতে বসি । গ্রন্থ নিবাচন সম্বন্ধে দই একটি কথা এখানে বলিলে অপ্রাসঙ্গিক হইবে না। অলপ লোকই কোন একটা উদ্দেশ্য লইয়া পড়েন। তাঁহারা হাতের কাছে যে-কোন বই পান, টানিয়া লইয়া পড়েন। এইরুপ অধ্যয়নের দ্বারা মানসিক উন্নতি হয় না। রেলযাত্রীরা প্রায়ই স্টেশনের বকষ্টলে যাইয়া একখানা বাজে নভেল কিনিয়া পড়িতে আরম্ভ করেন—বইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনাবলী পড়িয়াই প্রধানতঃ তাঁহারা আনন্দলাভ করেন। উপন্যাস পড়িয়া অবশ্য লাভ আছে। কিন্তু অধিকাংশ সময় কেবলই উপন্যাস পড়িলে, গভীর বিষয় অধ্যয়ন করিবার শক্তি হ্রাস পায়। বিশ্রামের সময়েই লঘু সাহিত্য পাঠ করা উচিত। গত পাঁচ বৎসরে ভাল উপন্যাস অপেক্ষা ইতিহাস ও জীবনচরিতই আমি বেশী পড়িয়াছি এবং তাহার ফলে উপন্যাস পাঠের উপর আমার এখন কতকটা বিরাগ জলিময়াছে। কোন নতেন পুস্তক আমি গভীরভাবেই পাঠ করিতে আরম্ভ করি। যাঁহাকে দরে হইতে সসম্প্রমে দেখিয়াছি, তাঁহার সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচয় করিতে হইলে মনে যেমন উত্তেজনার ভাব আসে, নতন গ্রন্থ পড়িবার সময়ে আমারও মনের ভাব সেইরাপ হয়। উদ্দেশ্যহীনভাবে পড়িতে আমি ভালবাসি না, বস্তুতঃ আমার অধ্যয়ন অলপ সীমার মধ্যে আবদ্ধ। অনেক সময় আমার প্রিয় গ্রন্থগুলি আমি পুনঃ পুনঃ পাঠ করি। হ্যালডেন বলেন,—“আমি শিখিয়াছি যে, কোন বই যদি পড়ার যোগ্য হয়, তবে উহা ভাল করিয়া পড়িয়া উহার মতামত আয়ত্ত করিতে হইবে। তাহাতে আর একটি লাভ হয়, পড়িবার বইয়ের সংখ্যাও হ্রাস হয়।” (আত্মচরিত, ১৯পঃ)। স্পেনসারের প্রসঙ্গে মলিও এই কথা অলেপর মধ্যে সন্দেরভাবে বলিয়াছেন—“একটা প্রচলিত অভ্যাস তিনি কোনদিনই মানিতেন না, তিনি কোন বই পড়িতেন না। যিনি কোন নতন মত প্রচার করিতে চান, তাঁহার পক্ষে ইহার কিছু প্রয়োজনীয়তা আছে, সন্দেহ (৩) কবি মাইকেল মধ্যসদন দত্ত মাদ্রাজ থাকিবার সময় (১৮৪৮–৫৬) তাঁহার দৈনিক কার্যতালিকা এইরূপে লিপিবদ্ধ করিয়াছেন – কুলের ছাত্রের চেয়েও আমার জীবন পরিশ্রমপর্ণ। আমার কার্যতালিকা ৬-৮ হিয়; ৮—১২ কুল; ১২—২ গ্রীক; ২—৫ তেলেগ ও সংস্কৃত: 6-१ शाम्नेिन; १-so ईरव्राछौ । भाट्छाषाग्न ऍप्तठिनाथळनव्र भट्र ऐन्मtणाग्न छना श्राभि कि প্রস্থত হইতেছি না? (যোগীন্দ্র বস কৃত জীবনী, ১৬৪ পঃ) । ।