পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হলের দক্ষিণ দিকের সিড়ির উপরে এবং রাস্তাতেও বিপুল জনসমাগম হইয়াছিল। লোকে যাহাতে তাঁহার বস্তৃতা শুনিতে পারে, এই জন্য শ্রীযন্ত চিত্তরঞ্জন দাশ সম্মুখের সিড়ির উপরে দাঁড়াইয়াছিলেন। আমি জনতার পশ্চাতে ছিলাম। এই সময়ে কেহ কেহ আমাকে দেখিতে পাইয়া সম্মুখের দিকে ঠেলিয়া দিল এবং চিত্তরঞ্জনের পাবেই আমি স্থান গ্রহণ করিলাম। আমি যাহাতে কিছু বলি, সেজন্য সকলেরই আগ্রহ ছিল। তাহার পর কি হইল, একখানি স্থানীয় দৈনিক পত্রে বর্ণিত হইয়াছে – “মিঃ সি, আর, দাশ ডাঃ স্যার পি, সি, রায়কে আলোচ্য প্রস্তাব সবন্ধে বস্তৃতা করিবার জন্য আহবান করিলেন। ডাঃ রায় বস্তৃতা করিবার জন্য উঠিলেন। সেই সময়ে এমন একটি দশ্যের সষ্টি হইল, যাহা ভুলিতে পারা যায় না। কয়েক মিনিট পর্যন্ত ডাঃ রায় কোন কথা বলিতে পারিলেন না। কেন না তাঁহাকে অভিনন্দন করিয়া চারিদিকে ঘন ঘন আনন্দোচ্ছনাস ও ‘বন্দে মাতরম ধৰনি হইতে লাগিল। ডাক্তার রায় আরম্ভে বলিলেন যে তাঁহাকে যে সভায় বস্তৃতা করিতে হইবে, ইহা তিনি পবে কল্পনা করিতে পারেন নাই। তিনি মাত্র দশক হিসাবে আসিয়াছিলেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারেই তাঁহার কাজ। কিন্তু এমন সময় আসে, যখন বৈজ্ঞানিককেও—তাঁহার অবশিষ্ট কথাগুলি শ্রোতৃবগের আনন্দধনির মধ্যে বিলতে হইয়া গেল। ডাঃ রায় পনরায় বলিলেন—এমন সময় আসে যখন বৈজ্ঞানিককেও গবেষণা ছাড়িয়া দেশের আহবানে সাড়া দিতে হয়। আমাদের জাতীয় জীবনের উপর এমন বিপদ ঘনাইয়া আসিয়াছে ষে ডাঃ পি, সি, রায় তাঁহার গবেষণাগার ছাড়িয়া এই ঘোর অনিষ্টকর আইনের প্রতিবাদ করিবার জন্য সভায় যোগ দিয়াছিলেন।” (অমতবাজার পত্রিকা, ফেব্রুয়ারী, ১৯১৯) । পাব পষ্ঠায় বলা হইয়াছে যে ভারত ইউরোপীয় যুদ্ধের সময়ে ব্রিটেনকে বিশেষ ভাবে সাহায্য করিয়াছিল। নিম্নে ঐ সম্বন্ধে একটি সংক্ষিপত বিবরণ দেওয়া হইল। সহকারী ভারতসচিব লড’ ইসলিংটন ইন্ডিয়া ডে’ বা ‘ভারত দিবস' (৫ই অক্টোবর, ১৯১৮) উপলক্ষে একটি বিবতি পত্র প্রস্তুত করেন। উহাতে, ইউরোপীয় যন্ধে ভারতের দান তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করা হয়। (ক) সৈন্য, (খ) যন্ধের উপকরণ, (গ) অথ"; তন্মধ্যে প্রধান বিষয়গুলি উল্লেখ করা হইতেছে। (ক) সৈন্য-ভারত হইতে যে সব ভারতীয় ও ব্রিটিশ সৈন্য ৪ঠা আগষ্ট ১৯১৪ হইতে ৩১শে জন ১৯১৮ পৰ্যন্ত প্রেরণ করা হইয়াছিল, তাহাদের সংখ্যা ১,১১৫,১৮৯ । (খ) যন্ধের উপকরণ—ইহা বলিলে অত্যুক্তি হইবে না যে, যদি ভারতের প্রদত্ত মালমশলা উপকরণ প্রভৃতি ব্রিটেন না পাইত, তবে বিপদ আরও শতগণে বধি পাইত এবং এরপে ভাবে যন্ধে চালানো অসম্ভব হইত। মিশর, মেসপটেমিয়া এবং অন্যান্য স্থানের ভারতীয় সৈন্যের রসদ প্রভৃতি যোগাইবার জন্য তখন ব্রিটেনকে যন্ধের মালমশলা সরবরাহ করার জন্য ভারতে বিশেষভাবে একটি মিউনিশান বোড প্ৰথাপন করতে হইয়াছিল। (গ) অথ-১৯১৭ সালের জানুয়ারী মাসে, ভারত গবৰ্ণমেণ্ট যন্ধের ব্যয় বরাপ ব্রিটিশ গবৰ্ণমেণ্টকে ১০ কোটী পাউণ্ড সাহায্য করেন। ব্রিটিশ গবৰ্ণমেণ্ট তাহা সকৃতজচিত্তে গ্রহণ করেন। ভারত গবৰ্ণমেণ্ট যন্ধের সময়ে সামরিক ব্যয় করিয়াছিলেন, তাহাতেই ভারতের আর্থিক দায়িত্ব শোধ হইয়া যায় নাই—যন্ধের জন্য নানা প্রকারে তাহার আর্থিক দায়িত্বভার বাড়িয়াছিল। বস্তুতঃ ভারত আর্থিক ব্যাপারে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের প্রধান স্তম্ভম্বরপে। বাংলার অসহযোগ আন্দোলনের প্রাণস্বরপ চিত্তরঞ্জন দাশের কারাদণ্ডের সময়, আমি