পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধৱস্ত গ্রামগলি দেখিতে গেলাম। বন্যার জল তখন নামিয়া গিয়াছে, কিন্তু ক্ষতির চিহ্ন সপেস্ট বর্তমান। বিভিন্ন সেবা-সমিতিগলি অক্লান্তভাবে কাজ করিতেছে। স্যার পি, সি, রায়ের ‘বেঙ্গল রিলিফ সমিতি তন্মধ্যে সবাপেক্ষা বহৎ প্রতিষ্ঠান এবং ইহারা খুব গঙ্খলার সহিত কাজও করিতেছিলেন। ইহা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নহে, কিন্তু ইহার হিন্দুস্থানী কমীদের মধ্যে দেখিলাম সকলেই অসহযোগী। जाझाझा जर्भािङग्न कर्णाश्रक्रिाण “সাহায্য সমিতির কম পরিচালনার ভার ন্যস্ত হইয়াছিল, একজন বাঙালী যুবকের উপর (শ্ৰীযন্ত সভাষচন্দ্র বস)। ইনি প্রায় দই বৎসর পাবে সিভিল সাভিস পরীক্ষায় উত্তীণ হন, কিন্তু পরে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিয়া সিভিল সাভিস ত্যাগ করেন। সেই অবধি ইনি রাজনৈতিক আন্দোলনে সংসস্ট আছেন। তাঁহার অধীনে প্রায় দুই শত স্বেচ্ছাসেবক সাহায্যকেন্দ্রে কাজ করিতেছেন, ইহাদের বয়স ১৭ হইতে ২৫ বৎসরের মধ্যে। সওদাগর আফিসের কয়েকজন কেরাণী তাঁহাদের প্রভুদের অনুমতি লইয়া এই সাহায্যকেন্দ্রে কমি'রাপে যোগদান করিয়াছেন। চিকিৎসা বিভাগে কাজ করিবার জন্য কয়েকজন ডাক্তারও ছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ স্বেচ্ছাসেবকই কংগ্রেস কমী। তাঁহাদের মধ্যে অনেকে গান্ধিজীর আহবানে সরকারী স্কুল কলেজ ত্যাগ করিয়াছিলেন। ইহাদের মধ্যে আমি একজন অসহযোগী ভারতীয় খন্টান যবেককে দেখিলাম,—আর একজন হিন্দ যবেককে দেখিলাম, তিনি যন্ধের পাবে বিপ্লব আন্দোলনে জড়িত সন্দেহে অন্তরীণ হইয়াছিলেন। “মোটের উপর প্রতিষ্ঠানটি ভাল বলিয়া বোধ হইল, স্বেচ্ছাসেবকদের কমের আদশও খুব উচ্চ বলিয়া মনে হইল। তাঁহারা বিধস্ত গ্রামগুলিতে স্বয়ং যান, নিজেরা সমস্ত অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন এবং গ্রামবাসীদের নিকট হইতে তাহদের দুঃখদ্যদশা ও ক্ষতির পরিমাণ সম্বন্ধে তদন্ত করেন। তারপর, তাঁহারা গ্রামবাসীদের যাহা প্রয়োজন তাহা নিজেরা গিয়া দিয়া আসেন অথবা গ্রামবাসীদের নিকটবতী সাহায্যকেন্দ্র হইতে তাহাদের প্রয়োজনীয় জিনিষ সংগ্ৰহ করিবার জন্য অনুমতিপত্র দেন। এইভাবে গ্রামবাসীদিগকে ষথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য, ঔষধ ও বস্থাদি বিতরণ করা হইয়াছে এবং গাহনিমাণের উপকরণ ও গোমহিষাদি পশর খাদ্য বিতরণ কায আরম্ভ হইয়াছে। অন্যান্য সাহায্য সমিতিও কাজ করিতেছে এবং গবৰ্ণমেণ্টও অনেক কাজ করিয়াছেন ও করিতেছেন। কিন্তু আমি অনুসন্ধানের ফলে বঝিলাম যে গবৰ্ণমেণ্টের বিরুদ্ধে লোকের অভিযোগের কারণ আছে। তাহারা স্পষ্টই বলিল যে, এই সমস্ত ব্যাপারে গবর্ণমেণ্টের যথেষ্ট মযাদা হ্রাস হইয়াছে এবং অসহযোগীদের মর্যাদা বাড়িয়াছে। স্যার পি, সি, রায়ের স্বেচ্ছাসেবকদের উৎকৃষ্ট কাৰ্যই ইহার প্রধান কারণ। “আমি সকল রকমের লোকের সঙ্গেই দেখা করিয়াছি এবং এ বিষয়ে কথাবাতা বলিয়াছি। নিম্নপদস্থ সরকারী কর্মচারী, লোকাল বোডের কমচারী, উকীল, জমিদার, রেল কমচারী, অসহযোগী স্বেচ্ছাসেবক এবং গ্রামবাসী সকলেই নিম্নলিখিতরীপে অভিমত প্রকাশ করিয়াছে। ছয় বৎসর পবে ছোট রেল লাইনকে বড় লাইনে পরিণত করা হয়। ইহার ফলে জল নিকাশের পথ স্থানে স্থানে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ সঙ্কুচিত হয়। ইহারই পরিণাম স্বরপ, ১৯১৮ সালে প্রবল বন্যা হয়, ১৯২০ সালে আর একবার সামান্য আকারে একটা বন্যা হয় এবং তাহার পর বর্তমান বিপত্তি। স্থানীয় সরকারী কর্মচারিগণ পানঃ পুনঃ সতক করিয়া দিলেও, গবৰ্ণমেণ্ট তাহাতে কণপাত করেন নাই। এখন গবপমেন্টের রেলওয়ে বিশেষজ্ঞগণ, রেলওয়ে বাঁধই যে বন্যার জন্য দায়ী এবং তাহার জন্য বিষম ক্ষতি