পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খাদি প্রতিষ্ঠান প্রতিবৎসর ৪ । ৫ হাজার টাকা লোকসান দিয়া কোন প্রকারে টিকিয়া আছে। যাহা হউক, আমরা এই প্রচেষ্টা ত্যাগ করি নাই, কেন না কয়েকটি স্থানে অনাথা বিধবুরা ও তাহাদের কন্যা, পত্রবধ প্রভৃতি চরকার উপকারিতা বুঝিতে পারিয়া উহা অবলম্বন করিয়া আছে। ফলে যে স্থলে প্রথম অবস্থায় ৮ । ১০ নম্বরের সন্তা হইত, সে স্থলে এখন ৩০ । ৪০ নম্বরের সন্তা হইতেছে। কাটনীরা পৰোকার মত দক্ষতা লাভ করাতে সন্তার মাল্য হ্রাস করিতে পারা গিয়াছে। যাহারা পরা সময়ে সভ্যতা কাটে তাহারা দৈনিক দই আনা রোজগার করে, আংশিক সময়ে সন্তা কাটিলে এক আনা উপাজন করিতে পারে। ১৯৩১ সালে পাটের মুল্য অসম্ভব রকমে হ্রাস হওয়াতে, আমরা বহন কাটনীর নিকট হইতে আবেদন পাইয়াছি। জগদব্যাপী মন্দার পরে, পনবার বন্যা হওয়াতে দদশা চরমে উঠে এবং চারিদিকে "চরকা দাও, চরকা দাও” রব উঠে। কলিকাতার বিভিন্ন সেবাসমিতি চাউল প্রভৃতি বিতরণ করিয়া ষে সাহায্য করিতেছে, তাহাতে দদশাগ্রস্ত অঞ্চলের দুঃখ অতি সামান্যই লাঘব হইতেছে। তাহার উপর ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা মন্দ হওয়াতে অথ* সাহায্যও অতি সামান্য পাওয়া যাইতেছে। যদি চরকা প্রচলিত থাকিত, তবে ৭ বৎসর বয়সের উধের বালক বালিকা হইতে আরম্ভ করিয়া, প্রত্যেক কার্যক্ষম কাটনী গড়ে এক আনা করিয়া উপাজন করিতে পারিত, এবং উহার বারা প্রত্যেক ব্যক্তির চাউল, তেল, লবণ, ডাল প্রভৃতির সংস্থান হইত। কাহারও নিকট অথের অফরত ভান্ডার নাই—ভাণ্ডার শন্য হইয়া আসিলে সাহায্য কাৰ্যও থামিয়া যায় এবং দগতদের আদস্টের উপর নির্ভর করিতে হয়। তাহা ছাড়া, প্রথম প্রথম সাহায্য বিতরণের প্রয়োজন থাকিলেও, উহার একটা অনিষ্টকর দিকও আছে। উহার ফলে সাহায্যদাতা ও গ্রহীতা উভয়েরই নৈতিক অধঃপতন হয়। কিন্তু গ্রহীতা যদি সাহায্যের পরিবতে কোন একটি কাজ করিয়া দিতে পারে, তবে তাহার আত্মসম্মান বজায় থাকে। সন্তার একটা বাজার মল্যেও আছে, সতরাং সন্তা বিক্লয়ের পয়সা কাটনীদের ভরণপোষণের কাজেই লাগে এবং এইরপে কম চকু আবতিত হইতে থাকে। কলিকাতার রাস্তায় দই তিন টন এমন কি চার পাঁচ টন ভারবাহী মোটর লরী চলে। কয়েক বৎসর হইতে কয়েক সহস্র মনুষ্য-বাহিত যানেরও আমদানী হইয়াছে। এগুলিতে পাঁচ, দশ, পনর, কুড়ি মণ পৰ্যন্ত মাল বহন করা হয়। ছোট যানগুলি একজন কি দইজন লোকে টানে, বড় গলির সম্মুখে দুই জন টানে, পিছনে দুই জন ঠেলে। এখানে দেখা যাইতেছে, মানুষ কেবল গর বা মহিষের গাড়ীর সঙ্গে, প্রতিষোগিতা করিতেছে না, মোটর চালিত যানের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করিতেছে। প্রকৃত কথা এই যে, এই সমস্ত কঠোর পরিশ্রমী লোক বিহার ও যুক্তপ্রদেশ হইতে আসে, ঐ দই প্রদেশে লোকসংখ্যা বেশী হওয়াতে, উহাদের পক্ষে জীবিকাজন করা কঠিন। সতরাং মানুষ শ্রমিক যে যন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করিতে পারে না, ভারত ও চীনে এই নিয়ম খাটে না। এই দই দেশের অন্ধ্যাশন-ক্লিষ্ট লক্ষ লক্ষ লোক এমন কম মজরীতে কাজ করিবার জন্য আগ্রহান্বিত যে, শিল্প বাণিজ্যে সমন্ধ অন্য কোন দেশে, তাহা অতি তুচ্ছ বলিয়া বিবেচিত হইবে। শ্ৰীফত ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এক শতাব্দী বা ততোধিক পবেকার সংবাদপত্র ঘাঁটিয়া যে সমস্ত মল্যবান তথ্য প্রকাশ করিতেছেন, সেজন্য তিনি দেশবাসীর ধন্যবাদাহ । পুরাতন ‘সমাচার দপণ হইতে উদ্ধত নিম্নলিখিত পত্ৰখানি হইতে বঝো যাইবে চরকার জন্য কোলব্লক সাহেবের বিলাপের কারণ কি এবং বিদেশী সীতা ভারতের কি বিষম আর্থিক ক্ষতি করিয়াছে। “চরকা আমার ভাতার পত চরকা আমার নাতি—”