পাতা:আত্মচরিত (প্রফুল্লচন্দ্র রায়).djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শাসনের তুলনায় হীন প্রতিপন্ন হইবে ? একথা ভুলিলে চলিবে না, যখন রাণী মেরী থমাস বন্ধীয় মতভেদ ও গোঁড়ামির জন্য নিজের প্রজাদিগকে অগ্নিকুণ্ডে বা কারাগারে নিক্ষেপ করিতেছিলেন, ঠিক সেই সময়ে পরাক্লান্ত মোগল বাদশাহ আকবর সবধমের প্রতি উদারনীতি ঘোষণা করিয়াছিলেন এবং মৌলবী, পণ্ডিত, রাবি, এবং মিশনারীকে দরবারে আহবান করিয়া তাঁহাদের সঙ্গে বিভিন্ন ধমের সম্বন্ধে দার্শনিক আলোচনায় প্রবত্ত হইয়াছিলেন। কেহ হয়ত একথা বলিতে পারেন যে, আকবরের কথা বতন্ত্র, তাঁহাকে মোগলদের প্রতিনিধি গণ্য করা যাইতে পারে না। ইহা অত্যন্ত ভ্রান্ত কথা। ধর্মবিষয়ে উদারতা মোগল বাদশাহদের পক্ষে সাধারণ নিয়ম ছিল, বিরল ঘটনা ছিল না।” উত্তর প্রদেশের প্রধান সংবাদ পত্র “স্কটসম্যান” এই প্রবন্ধ সমালোচনা প্রসঙ্গে লিখিয়াছিলেন,—“এই ক্ষুদ্র বহিখানি খুবই চিত্তাকর্ষক। ইহাতে ভারত সম্বন্ধে এমন অনেক তথ্য আছে, যাহা অন্যত্র পাওয়া যায় না। এই গ্রন্থের প্রতি সকলের দটি আমরা বিশেষভাবে আকষণ করিতেছি।” কিন্তু এই ঐতিহাসিক আলোচনার উৎসাহ আমাকে সংযত করিতে হইল। আমার শীঘ্রই বি, এস-সি, পরীক্ষা দিবার কথা, এবং রসায়নশাস্ত্রের দাবী রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য উপেক্ষা করা যায় না। আমি গভীরভাবে আমার প্রিয় রসায়নশাসের আলোচনায় আত্মনিয়োগ করিলাম। বি, এস-সি, ডিগ্রী পাওয়ার পর আমাকে ডক্টর (D. Sc.) উপাধির জন্য প্রস্তুত হইতে হইল; এজন্য কোন মৌলিক গবেষণা মলক প্রবন্ধ দাখিল করা প্রয়োজন। লেবরেটরীতে গবেষণা এবং ইংরাজী, ফরাসী, ও জামাণ ভাষায় লিখিত রসায়নশাস অধ্যয়ন—ইহাতেই আমার সময় কাটিতে লাগিল। "איי "י"י ייי " -יין: | - এডিনবাগের শীতল, বাস্থ্যকর জলবায়তে আমাদের দেশের অপেক্ষা বেশী পরিশ্রম করা যায়, অথচ কোন ক্লান্তি বোধ হয় না। লেবরেটরীতে কাজ শেষ হইবার পর গহে । ফিরিবার পবে আমি খুব খানিকটা বেড়াইয়া আসিতাম। আমি সমাজে বড় বেশী মেলামেশা করিতাম না। কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু যে কারণেই হউক ঐ সমস্ত পরিবারের বয়স্ক পর্যদের সঙ্গাই তরণেীদের সঙ্গ অপেক্ষা আমার ভাল লাগিত। বয়স্ক পরষদের সঙ্গো আমি নানা বিষয়ে আলোচনা করিতে পরিতাম। কিন্তু যখনই তরুণীদের সঙ্গে আমার পরিচয় হইত, আমার কেমন সকোচ বোধ হইত এবং মামলী আবহাওয়া, জলবায় ইত্যাদি বিষয় ছাড়া আর কোন বিষয়ে কথা বলিতে পারতাম না। ঐরপে দই চারিটা কথা শীঘ্রই শেষ হইয়া যাইত এবং নাতন কোন বিষয় খাজিয়া না পাইয়া আমি অপ্রতিভ হইয়া পড়িতাম। আমার কোন কোন ভারতীয় বন্ধ নারীমহলে আলাপ পরিচয়ে বেশ স্পট ছিলেন। ঘটনাক্রমে কোন সমাজের মধ্যে পড়িলে তাহার ধাত বকিয়া আলাপ জমাইয়া তুলিবার মত দক্ষতা আমার ছিল না। কেহ যেন মনে না করেন যে, আমি নারীবিদ্বেষী ছিলাম অথবা নারী পাতির সেন্দিব ও মাধ্য অনুভব করিবার শক্তি আমার ছিল না। বস্তুতঃ রসায়নশাসের খ্যাতনামা প্রবতক ক্যাভেনডিশের চেয়ে এ বিষয়ে যে আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম, এজন্য নিজকে ধন্য মনে করি। - ডাঃ এবং মিসেস কেলী (ক্যাপো ভাডি, টিপারলেন রোড) প্রতি শনিবারে ভারতীয় অন্যান্য বিদেশী ছাত্রদের সবগহে অভ্যর্থনা করিতেন। প্রবীণ দম্পতাঁর সঙ্গে আমার সোঁহাদ্য ছিল। একবার আমার পরাতন ব্যাধি উদরাময়ে আমি ভূগিতেছিলাম। সেই সহদের দম্পতী আমাকে দেখিতে আসিয়াছিলেন এবং আমার জন্য বিশেষভাবে