পাতা:আমাদের জাতীয়ভাব - রজনীকান্ত গুপ্ত.pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

[ ১১ ]

বিবেচনা করেন কেন?” আমাদের দেশের শীর্ষস্থানীয়, এই সদাশয় মহাপুরুষ গবর্ণরের সমক্ষে যেরূপ স্বাধীনভাবে জাতীয় রীতি রক্ষা করিয়াছিলেন, তদনুরূপ আচরণ করা আমাদের সর্ব্বথা কর্ত্তব্য।

 পরিচ্ছদ ও আচার ব্যবহারের ন্যায়, সাহিত্যে, শিক্ষায় ও কথাবার্ত্তা প্রভৃতিতে জাতীয়ভাব পরিস্ফুট হইয়া থাকে। কিন্তু এ বিষয়েও আমাদের মধ্যে নানারূপ বিড়ম্বনা দেখা যায়। কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম, ভারতচন্দ্র, রামপ্রসাদ, হরুঠাকুর, রামবসু, ঈশ্বরগুপ্ত প্রভৃতির রচনা কেমন সুন্দর ও সহৃদয়তার উদ্দীপক। পড়িবামাত্র তাহা বাঙ্গালীর বিশুদ্ধ সম্পত্তি বলিয়া বোধ হয়। তাহাতে বিজাতীয়ভাবের আবিলতা নাই, বিজাতীয় ভাষার কুটিল বিভ্রম নাই এবং বিজাতীয় সভ্যতার বিচিত্র আবেশ নাই। তাহা প্রসন্নসলিলা জাহ্নবীর জলপ্রবাহের ন্যায় নিয়তই স্বচ্ছ, নিয়তই আবিলতাবর্জ্জিত ও নিয়তই জীবনতোষিণী। ইদানীন্তন কবিগণের রচনায়, সেরূপ সহৃদয়তা বা সেরূপ বিশুদ্ধির অভাব দৃষ্ট হয়। ইদানীন্তন গ্রন্থকার ইঙ্গরেজীতে শিক্ষিত ও ইঙ্গরেজীভাবে অনুপ্রাণিত, সুতরাং তাহার রচনাও ইঙ্গরেজীর গন্ধবিস্তার করে। জাতীয় সাহিত্যের সম্যক্ অনুশীলন না হইলে ইহার প্রতীকার হইবে না। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায়, ইঙ্গরেজী অনুবাদের প্রশ্নে, যেরূপ অপূর্ব্ব বাঙ্গালার সৃষ্টি হইতেছে, আমাদের জাতীয় ভাষার কিরূপ অসম্মান ঘটিতেছে, তাহাতেই স্পষ্ট বোধ হইবে। কোনও স্বাধীন দেশে, মাতৃভাষার এরূপ অবমাননা ঘটিলে,—অপরের সমক্ষে মাতৃভাষা এরূপ উপহাসাস্পদ হইলে, তুমুল আন্দোলন উপস্থিত হইত। মাতা ও মাতৃভাষা, উভয়ই সমান আদর, সম্মান ও শ্রদ্ধার অধিকারিণী, মাতার স্তন্যে যেরূপ আমরা পরিপুষ্ট ও মাতার স্নেহে যেরূপ আমরা পরিবর্দ্ধিত হই, জাতীয় ভাষার গুণে, সেইরূপ আমাদের জাতীয় ভাবের উন্মেষ হয়। মাতা অামাদিগকে মানুষ