পাতা:আমার বাল্যকথা ও আমার বোম্বাই প্রবাস.pdf/২৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२७ আমার বোম্বাই প্রবাস চতুর মন্ত্রী ছিলেন, সিনের অতিভক্তির তলে যে স্বার্থসাধন অভিসন্ধি ছিল তাহ। তলাইয়া বুঝিতে র্তাহার আর বাকী রহিল না। নানা ও সিন্দের মধ্যে মহা রেষারেষি,— পেশওয়া বেচারা ভাবিয়া পান না কোন দিক রক্ষা করেন। দুইজন তাহার দুই বাহু । মহাদাজীর প্রভুত্ব নানার অসহ্য হইয়া উঠিল— এমন কি, তিনি রাজ্য কারবার ছাড়িয়া কাশীবাসের সঙ্কল্প জানাইলেন। এমন সময় যমদূত আসিয়া নানার পক্ষ অবলম্বন করিল। সিন্দিয়া জররোগে আক্রান্ত হইয় অকস্মাৎ মানবলীলা সম্বরণ করিলেন। নানার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সরিয়া যাওয়াতে র্তাহার প্রভুত্বের পথ নিষ্কণ্টক হইল। খর্ডার যুদ্ধ মঙ্গদাঙ্গীর মৃত্যুর অনতিকাল পরে পেশওয়া ও নিজামের মধ্যে চৌথ লইয়া যুদ্ধ বাধিবার উপক্রম। নিজাম আলি ব্ৰিটিষ সিংহকে স্বপক্ষে টানিবার অনেক চেষ্ট৷ করিয়াও কৃতকাৰ্য্য হইলেন না। শীঘ্রই যুদ্ধারম্ভ হইল। মহারাষ্ট্রীয় মহা মহা বীরের পেশওয়ার পতাকাতলে এই শেষবার সম্মিলিত হইলেন । মহাদাজীর উত্তরাধিকারী দৌলতরও সিন্দে তথা তুকাজী হোলকর পুণাতেই ছিলেন । নাগপুর রাজা ভেসেলাও প্তাহীদের মধ্যে আসিয়৷ জুটলেন । গোবিন্দরাও গাইকওয়াড় গুজরাট হইতে ফৌজ পাঠাইলেন। রাস্তে ও পটবর্দ্ধন, মালেগাম ও বিষ্ণুরপতি, পস্ত প্রতিনিধি, পস্ত সচিব, নিম্বালকর, পাটনকর, ঘটগে, ডমালে, থোরাত, পত্তওয়ার প্রভৃতি বড় বড় শূর সর্দার জায়গীরদার স্ব স্ব দলবল লইয়া রণসজ্জায় সজ্জিত হইলেন । অশ্বপদাতিক সৰ্ব্বসমেত প্রায় দেড় লক্ষ সেনা একত্রিত । পরশুরাম ভাউ সেনাপতি । আহমদনগর জিলার অন্তর্গত খর্ডায় যুদ্ধ সংঘটন হয় । এই যুদ্ধে বড় একটা রক্তপাতের প্রসঙ্গ আসে নাই। যেমন গর্জন তেমন বর্ষণ নয়। কোন পক্ষের বিশেষ রণচাতুরীও প্রকাশ পায় নাই। নিজামের অকারণ ভীরুতা ও ভয়ে পলায়নবশতঃ মারাঠীরা স্থলভমূল্যে জয় ক্রয় করিতে সমর্থ হইল। মারাঠীগণ এই যুদ্ধে নিজাম সরকার হইতে দৌলতাবাদ ভূমিখণ্ড ও বিস্তর নগদ টাকা মিলিয়া বিলক্ষণ এক কামড় আদায় করিয়া লইল । নানার গৌরবের আর সীমা রহিল না । কোন বিদেশী রাজার সাহায্য বিন অমন প্রবল শত্রুর পরাভব, ধন্ত নানার নয়কৌশল ! দৌলতরাও সিন্দিয় তাহার প্রতি প্রসন্ন, তুকাজী হোলকর তাহার বাধ্য, রঘুজী ভেসেল ও অপরাপর সর্দারগণ র্তাহার প্রতি অনুরক্ত। পেশওয়ার রাজ্যে অদৃষ্টপূর্ব গৌরব সঞ্চারের সকলি অমুকুল। এই সমস্ত শুভলক্ষণ সত্ত্বেও কোথা হইতে তচন্থিতে এক দুর্ঘটন ঘটিয়৷ নানার আশা ভরসা বস্তায় ভাসাইয়া দিল ।