পাতা:আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করিনা - প্রবীর ঘোষ.pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

 দুই: প্রাচীন হিন্দু পুরাণ, ধর্মশাস্ত্র, মহাকাব্যে আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোর উল্লেখ রয়েছে রূপক আকারে। প্রয়োজন—রূপকগুলোর ব্যাখ্যার। প্রয়োজন—আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে রূপকগুলোর পুনর্ব্যাখ্যার।

 তিন: ভারতের বৃহত্তম হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রামকৃষ্ণ মিশন আহ্বান জানাচ্ছে, আমাদের ঋষিদের অধ্যাত্মবাদী জ্ঞান ও ঈশ্বরবাদী জ্ঞান যা আসলে বিজ্ঞান, সেই বিজ্ঞান দ্বারা পাশ্চাত্যের অসম্পূর্ণ বিজ্ঞানকে অপসারণ করতে হবে। এবং এ'ভাবেই আত্মবিস্মৃত জাতিকে উঠে দাঁড়াতে হবে।

 চার: ঈশ্বরে বিশ্বাস ও যুক্তিমনস্কতা বা বিজ্ঞানমনস্কতার মধ্যে কোনও বিরোধ নেই।

 পাঁচ: হিন্দু দর্শন অবশ্যই বিজ্ঞান এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের চেয়ে অনেক বড় বিজ্ঞান।

 যদিও অবশ্য সেটা প্রমাণ করতে গেলে আবার হিন্দু দর্শনের মধ্যে পাশ্চাত্য বিজ্ঞানের তত্ত্বই খুঁজে বার করতে হয়।

 এই কথাগুলো শুধুমাত্র রামকৃষ্ণ মিশন প্রচার করছে না, এই একই ধরনের বক্তব্য প্রচারে বিপুলভাবে আসরে নেমেছে বিশ্বহিন্দু পরিষদ, ভারতীয় জনতা পাটি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দল। সঙ্গে গলা মেলাতে পেয়েছেন কিছু হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী বিজ্ঞানীকে।

 ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রামকৃষ্ণ মিশন, বিশ্বহিন্দু পরিষদ ও মৌলবাদী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ভারতীয় জনতা পার্টির (অবশ্য ভারতের নির্বাচন নির্ভর রাজনৈতিক প্রতিটি দলই ব্যাপক অর্থে মৌলবাদকে জিইয়ে রাখতে চায় ভোট-বাক্সকে স্ফীত করার লোভে। আর এই লোভেই রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের অলীক ঈশ্বর বিশ্বাস, অমানবিক ধর্মীয় বিশ্বাস, ভ্রান্ত নিয়তিবাদকে জনগণের মন থেকে সরাবার চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের ভোট হারাবার ঝুঁকি নিতে নারাজ) সুরে সুর মেলাতে হাজির হয়েছে বাঙলাভাষী ইন্টেলেকচুয়ালদের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তথাকথিত সাহিত্য পত্রিকা 'দেশ'। 'দেশ’ বিভিন্ন বুদ্ধিজীবীদের দিয়ে লাগাতারভাবে ঈশ্বর বিশ্বাস ও ধর্ম বিশ্বাসের পক্ষে বস্তাপচা যুক্তি উগরেই চলেছে।

 ২২ এপ্রিল, ১৯৯৫ সংখ্যার 'দেশ' থেকে ইতিমধ্যেই কিছু কিছু কুযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি। ওই সংখ্যার ৪৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে - বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের মডেল হিসেবে 'ঊর্ণনাভ' বা মাকড়সার উল্লেখ আছে, বেদান্তে। বাস্তবের বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে মাকড়সার আশ্চর্যরকম মিলও খুঁজে পেয়েছে মধ্যবিত্ত মানসিকতাকে 'আঁতেল’ হবার সুখ দেওয়া 'দেশ' পত্রিকা। মিল কোথায়? বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড শূন্য থেকে প্রসারিত হতে শুরু করেছে, আবার সঙ্কুচিত হয়ে একদিন শূন্যে পরিণত হবে। মাকড়সা না হোক, মাকড়সার জালও প্রসারিত হয়, আবার জাল গুটিয়েও নেওয়া যায়। অতএব বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে বেদান্ত বর্ণিত মাকড়সার দারুণ মিল খুঁজে পাওয়া গেল!

১৩৫