পাতা:আরোগ্য - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বড় বড় বাড়ীগুলি আর নতুন যে বাড়ী উঠেছে সেগুলিই কেবল বাড়ীর কোন থেকে না ঘেষে কম বেশী তফাতে তফাতে দাড়িয়ে VfL রাত বেশী হয়নি। আলো নিভিয়ে বোসপাড়া ঘুমিয়ে পড়লেও রাস্তায় লোক খুব কম। কোন দাওয়ায় বসেছে কয়েক জনের আড কোন বাড়ী থেকে শোনা যাচ্ছে ছেলেমেয়ের চেচিয়ে পড়া, কোনো বাড়ীতে বাজছে রেডিও । প্ৰকাণ্ড বট গাছটার লাগাও সাদা চুণকাম করা চৌকো দোতলা বাড়ী আবছা আঁধারে বড়ই রহস্যময় দেখায়, সংলগ্ন আটচালা দুটো সে রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। ভিতরে আলো জলছে, মানুষের গলার আওয়াজ বাইরে ভেসে আসছে, নাকে এসে লাগছে রান্নাঘরের সম্ভারের গন্ধ। তবু তারা ভরা নীলাকাশ যেমন প্ৰকাশ্য হয়েও রহস্যময়, বৈশাখী গুমোট সন্ধ্যায় নিথর জমকালে বটগাছটা জীবন্ত হয়েও যেমন মৃতের মত ভয়ের রহস্যে ঘেরা, তেমনি সাধারণ ইটের বাড়ীটার ছায়াছন্ন শুভ্ৰত যেন ছায়ালোকের প্রতীকের মত রহস্যানুভূতিকে নাড়া দেয়। রাস্তায় দাড়িয়ে একটু ইতস্ততঃ করে কেশব। প্রতিদিন বাড়ী ফেরার পথে মায়াকে জানান দিয়ে যায়। তার বাড়ী ফেরার কথা । কিন্তু আজ যদি মায়া তাকে ভেতরে ডাকে ? যদি টের পায় তার মুখের গন্ধ ? বেড়ার ওপর থেকে গানের কোমল টানের কত মিষ্টি মেয়েলি গলায় প্রশ্ন আসে, কে ? এতজন লোকের রান্না রাধতে রাধতেও মায়া। তবে তার প্রত্যাশায় সত্যই ঘন ঘন পথের দিকে তাকায় । কেশব বলে, আমি । S፧b”