পাতা:আর্য্যাবর্ত্ত (চতুর্থ বর্ষ).pdf/৫৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


( ) অপেক্ষাকৃত শান্ত হইয়া রামদীন বলিতে লাগিল। আপনার জামাতা ম্যানেজারকে খুন করেন নাই। আমিই খুন করিয়াছিলাম। আর সে ঐ মৃত্যুমণির জন্য। আপনার জামাতা খনিতে আসিবার কয় দিন পূর্বে এক দিন অপরাহে ম্যানেজার বাঙ্গলোর বারান্দায় । বসিয়া ছিলেন। আমিও একটা কাযে তথায় আসিয়াছিলাম। এমন সময় - একজন পাঞ্জাবী আসিয়া সম্মুখে দাড়াইয়া বলিল “আমি দৈবজ্ঞ।” । ম্যানেজার অবিশ্বাসের হাসি হাসিয়া বলিলেন, “আমার ভাগ্যে কি ? আছে, বলিতে পাৱ ?” তিনি হাত বাড়াইয়া দিলেন। . . তাহার হাত হাতে লইয়াই দৈবজ্ঞা অঙ্গুরীটি ভাল করিয়া দেখিল, তাহার | পর বলিল, “এ মৃত্যুমণি আপনি কেন রাখিয়াছেন ?” ম্যানেজার বলিলেন, “কেন ?’ . . . “আমি ইহার নীলবর্ণের মধ্যে লোহিত আভা দেখিতে পাইতেছি। ” ইহা মৃত্যুমণি। ইহা ত্যাগ করুন ; ফেলিয়া দিউন।” ম্যানেজার বলিলেন, “আর তুমি কুড়াইয়া লইয়া যাও।” দৈবজ্ঞ বলিল, “আমি উহা স্পর্শও করিব না।” সে ম্যানেজারের হাত । ছাড়িয়া দিল । ম্যানেজার বলিলেন, “কি কুসংস্কার। আমি দরিদ্র-নিরান্ন ছিলাম। আর, এই অঙ্গুরী প্ৰস্তুত করাইবার পর হইতে আমার অবস্থার উন্নতি হইয়াছে। : তোমার বিদ্যা বুঝিয়াছি। তুমি যাও।” . দৈবজ্ঞ চলিয়া গেল। আমি ম্যানেজারের কথা শুনিয়াছিলাম। আমি অন্নোর আশায় বিদেশে? চাকরী করি ; পেট ভরে না। যদি আমি মণি পাই! আমি অবসর অন্ধুসন্ধান করিতে লাগিলাম। তাহার পর জামাই বাবু খনিতে আসিলেন। তঁহার সহিত ম্যানেজাম্বের বিবাদ বাধিল। যে দিন উভয়ে বাচসা হকীয়া গেল, সেই দিন ডাকঘরে ; টেলিগ্রাম পাঠাইয়া ফিরিবার সময় আমি সঙ্কল্প স্থির করিলাম। স্ট্র সন্ধ্যার পূর্কেই আমি জামাই বাবুর পিস্তল সরাইয়া রাখিয়াছিলাম।” নিশীথে ম্যানেজারের ঘরে প্রবেশ করিয়া আমি তাহার বক্ষে গুলী করিলাম ; ;