পাতা:ইন্দিরা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাঠভেদ לoש কিন্তু অন্তঃপুরে আসিতে কোন মতেই স্বীকৃত হইলেন না। বলিলেন, “আমি যে স্ত্রীকে গ্রহণ করিব না, তাহাকে সম্ভাষণও করিব না।” শেষে মাতার রোদন এবং আমার সমবয়স্কাদিগের ব্যঙ্গের জালায় সন্ধ্যার পর অন্তঃপুরে জল খাইতে আসিলেন। তিনি জলযোগ করিতে আসনে বসিলেন। কেহ তাহার নিকটে দাড়াইল ন!—সকলেই সরিয়া গেল। তিনি অন্ত মনে, মুখ নত করিয়া, আহার করিতেছিলেন, এমত সময়ে আমি নিঃশব্দে তাহার পশ্চাতে আসিয়া দাড়াইয় তাহার চক্ষু টিপিয়া ধরিলাম। তিনি হাসিতেই বলিলেন, "া দেখ, কামিনি, তুই আরও কি কচি খুকী যে আমার ঘাড়ের উপর পড়িস্r কামিনী আমার কনিষ্ঠ ভগিনীর নাম । •o: আমি বলিলাম, "আমি কামিনী নই, কে বল, তবে ছাড়িব ।” আমার কণ্ঠ স্বর শুনিয়া তিনি চমকিয়া উঠিলেন। বলিলেন, "এ কি এ ?” আমি তাহার চক্ষু ছাড়িয়া সম্মুখে দাড়াইলাম। বলিলাম, "চতুর চূড়ামণি! আমার নাম ইন্দির – আমি হরমোহন দত্তের কন্য, এই বাড়ীতে থাকি। আপনাকে প্রাতঃপ্রণাম—আপনার কুমুদিনীর মঙ্গল ত?” তিনি অবাক হইলেন। আমাকে দেখিয়াই যে র্তাহার আহলাদ হইল, তাহা বুঝিতে পারিলাম। বলিলেন, “এ আবার কোন রঙ্গ কুমুদিনি ? তুমি এখানে কোথা হইতে ?” আমি বলিলাম, “কুমুদিনী আমার আর একটি নাম। তুমি বড় গোবর গণেশ, তাই এত দিন আমাকে চিনিতে পার নাই। কিন্তু তোমাকে যখন রাম রাম দত্তের বাড়ী ভোজন করিতে দেখিয়াছিলাম, আমি তখনই তোমাকে চিনিয়াছিলাম। নচেৎ সে দিন তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতাম না। প্রাণাধিক —আমি কুলটা নহি ।” তিনি একটু আত্মবিশ্বতের মত হইলেন। পরে জিজ্ঞাসা করিলেন, "তবে এতদিন এত ছলনা করিয়াছিলে কেন ?” আমি বলিলাম, “তুমি প্রথম সাক্ষাতের দিনে বলিয়াছিলে যে তোমার স্ত্রীকে পাইলেও গ্রহণ করিবে না। নচেৎ সেই দিনেই পরিচয় দিতাম।” দান পত্ৰখানি আমার অঞ্চলে বাধিয়া আনিয়াছিলাম। তাহা খুলিয়া দেখাইয়া বলিলাম “সেই রাত্রেই আমি প্রতিজ্ঞ করিয়াছিলাম যে হয় তুমি আমায় গ্রহণ করিবে, নচেৎ আমি প্রাণত্যাগ করিব।” সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্যই এই খানি লেখাইয়া লইয়াছি। কিন্তু ইহা আমি ভাল করি নাই। তোমার সঙ্গে শঠতা করিয়াছি। তোমার অভিরুচি হয়, আমায় গ্রহণ কর; না অভিরুচি হয়, আমি তোমার উঠান ঝাটি দিয়া থাইব—তাহা হইলেও তোমাকে দেখিতে পাইব, দান পত্র আমি এই নষ্ট করিলাম।” এই বলিয়া সেই দান পত্র তাহার সম্মুখে খণ্ড২ করিয়া ছিন্ন করিলাম। তিনি গাত্ৰোখান করিা—আমাকে আলিঙ্গন করিলেন। বলিলেন, "তুমি আমার সর্বস্ব। তোমায় ত্যাগ করিলে আমি প্রাণে মরিব। তুমি আমার গৃহে গৃহিণী হইবে চল।" সমাপ্ত ।