পাতা:ইন্দিরা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


DDD DBBBBB BBS BB BBBBB BD BBB BBBBBBSBBB S উপর একটু অধিক করিয়া বিষ ঢালিয়া না দিব কেন ? বোধ হয়, “প্রাণনাথ’জাহত হইয়া বাহিরে গেলেন। । -- : আমি তখন হারাণীর শরণাগত হইব মনে করিলাম। নিভৃতে ডাকিবামাত্র সে হাসিতে হাসিতে আসিল । সে উচ্চ হাস্ত করিয়া বলিল, “পরিবেশনের সময় বামন ঠাকুরাণীর নাকালটা দেখিয়াছিলে ?” উত্তরের অপেক্ষ না করিয়া সে আবার হাসির ফোয়ারা খুলিল । আমি বলিলাম, “তা জানি, কিন্তু আমি তার জন্য তোকে ডাকি নাই। আমার জন্মের শোধ একবার উপকার করু। ঐ বাবুট কখন যাইবেন, আমাকে শীঘ্র খবর আনিয়া দে।” হারাণী একেবারে হাসি বন্ধ করিল। এত হাসি, যেন ধুয়ার অন্ধকারে আগুন ঢাকা পড়িল। হারাণী গম্ভীরভাবে বলিল, “ছি। দিদি ঠাকরুন ! তোমার এ রোগ আছে, তা জানিতাম না ।” -- আমি হাসিলাম। বলিলাম, “মানুষের সকল দিন সমান যায় না। এখন তুই গুরুমহাশয়গিরি রাখৃ—আমার এ উপকার করৰি কি না বল।” হারাণী বলিল, “কিছুতেই আমা হইতে এ কাজ হইবে না ।” আমি খালি হাতে হারাণীর কাছে আসি নাই। মাহিয়ানার টাকা ছিল ; পাচটা তাহার হাতে দিলাম। বলিলাম, “আমার মাথা খাস, এ কাজ তোকে করিতেই হইবে।” হারাণী টাকা কয়ট ছুড়িয়া ফেলিয়া দিতেছিল, কিন্তু তাহা না দিয়া, নিকটে উনান নিকাইবার এক ঝুড়ি মাটি ছিল, তাহার উপর রাখিয়া দিল। বলিল—অতি গম্ভীরভাবে, আর হাসি নাই—“তোমার টাকা ছুড়িয়া ফেলিয়া দিতেছিলাম, কিন্তু শব্দ হইলে একটা কেলেঙ্কারি হইবে, তাই আস্তে আস্তে এইখানে রাখিলাম—কুড়াইয়া লও। আর এ সকল কথা মুখে এনে না।” আমি কাদিয়া ফেলিলাম। হারাণী বিশ্বাসী, আর সকলে অবিশ্বাসী, আর কাহাকে ধরিব? আমার কান্নার প্রকৃত তাৎপৰ্য্য সে জানিত না। তথাপি তার দয়া হইল। সে বলিল, “কঁাদ কেন ? চেনা মানুষ না কি ?” - আমি একবার মনে করিলাম, হারাণীকে সব খুলিয়া বলি। তার পর ভাবিলাম, সে এত বিশ্বাস করিবে না, একটা বা গণ্ডগোল করিবে। ভাবিয়া চিন্তিয়, স্থির করিলাম,