পাতা:ঊর্ম্মিমুখর.djvu/১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কালাঝোরের নীল সীমারেখা নীল আকাশের কোলে । ঐ দিকে আজি বাংলাদেশে আমাদের গ্রামের বাওড়ের ধারে আড়ং বসেচে, কত দোকানদারের কত বেচাকেনা, কত নতুন কাপড় পরা ছেলেমেঘের ভিড়। পাথরের ওপর অপরাহের ঘনায়মান ছায়ায় এক জায়গায় বসে চারিধারের মুক্ত প্রসারত দেখে কেবলই বাংলা-জোড়া বিজয়া দশমীর উৎসব ও কত হাজার হাজার ছেলেমেয়েদের হাসিমুখ মনে পড়ল। দু'দিনের বিজয় দশমীর কথা আমার মনে আছে ছেলেবেলাকার।...যুগলকােকা সেদিন এসে রান্নাধর ও বড়ঘরের মাঝখানে উঠোনেতে দাড়িয়ে বাবার সঙ্গে বিজয়ার আলিঙ্গন ও প্রণাম করলেন ।...আর যেদিন গঙ্গা বোষ্টমকে আমরা আশুদের চণ্ডীমণ্ডপে ব্ৰাহ্মণ ভেবে ভুলে পায়ের ধুলো নিয়ে প্রণাম করেছিলুম। আজকার দিনে যেখানে যত লোককে ভালবাসি সকলের কথাই মনে পড়ল, তাদের মধ্যে কাছে কেউই নেই, অনেকে পৃথিপত্রেই নেই, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্যে আমার এ প্রীষ্টিনির্দেশ হয়তো বা ব্যর্থ স্থাবে না । গালুডির হরিদাস ডাক্তারের সঙ্গে অনেককাল পরে আজ দেখা । সে গিয়েছিল ধলভূমগড়ের রাজবাড়ীতে রোগী দেখতে, আমরা এখানে আছি শুনে বৃদিপলারদের সঙ্গে এখানে ট্রেণ থেকে নেমেচে, তার সঙ্গে জ্যোৎস্নাফুল্ল সন্ধ্যায় পাহাড়ী নদীর ধারে তপ্ত শীলাখণ্ডের ওপর গিয়ে বসলুম। অমনি যেন অন্ত এক জগতে এসে পড়েটি মনে হ’ল। দুরে নদীর কুলুকুলু জলস্রোত, ওপারের জোংরা শুশ পাহাড়,শ্রণী, খুব একটা অ'কাৰ্বাক! কি গাছ, আর একপ্রকারের বস্তফুলের শিষ্ট স্বাস-মাথার ওপরের নক্ষত্রবিরল আকাশ–সবগুলো মিলে আমায় এমন এক রাজ্যে নিয়ে গেল যে চুপ করে সেদিকে চেয়ে বসেই থাকি, হরিদাস ৮াক্তারেব সঙ্গে কথা বল। আর আমার ছয় না, কথা বলবার মত মনও নেই, কেমন যেন হয়ে গেলুম । দু’জনেই চুপচাপ কতক্ষণ বসে থেকে রাত দশটার কাছাকাছি বাংলোতে ফিরি । & বৈকালে নীলবর্ণ বেড়াতে গেলুম কিন্তু বেলা গিয়েছিল বলে বেশীক্ষণ নীলঝর্ণার উপত্যকায় বসে থাকা সম্ভব হ’ল না । পাহাড়ের ওপারে উৎরাই