পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/২৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দশম অধ্যায় । ২৬৩ তাহার দলবলকে সহসা আক্রমণ করিবে, বিধ্বস্ত করিবে, সৰ্ব্বস্বলুণ্ঠন করিবে, এই ভাবনাতেই তিনি অস্থির হইয়া, যমের অগম্যস্থান এই হিজলীতে যাইবার মনস্থ করিয়াছিলেন । হিজলী, মোগলের অধিকারভুক্ত স্থান হইলেও হুগলী বা ঢাকা হইতে সেন পাঠাইয়া মোগলেরা তাহাকে ততটা ব্যতিব্যস্ত করিতে পারিবেন না, ইহাই তাহার প্রধান আশা । অপরন্তু হিজলী সমুদ্রের নিকটে । সমুদ্রপথে—ইংরাজ চিরদিন নির্ভয় চিত্ত। প্রয়োজনমতে সমুদ্রপথ হইতে ইংরাজ-জাহাজের সাহায্য পাওয়া যাইতে পারে। সঙ্গে যে কয়েকখানি জাহাজ আছে, বেশী গোলযোগ সম্ভাবনা দেখিলে, সেই জাহাজে উঠিয়া সমুদ্রপথে পলায়নেরও কোন অন্তরায় উপস্থিত হইবে না। এই সব ভাবিয়া চার্ণক হিজলী যাওয়াই স্থির করিলেন । কোন ইউরোপীয় বণিকেরাই, এ পর্য্যস্ত মোগল-বাদসাহের সৈন্সের সহিত, প্রকাশ্য সংঘর্ষ উপস্থিত করিতে সাহসী হন নাই । দিনেমার, ওলন্দাজ যাহা করিতে সাহসী হন নাই—ইংরাজপক্ষ হইতে জবচাণক তাছাই করিলেন। তিনি হুগলীতে যে হুলস্থল ব্যাপার ঘটীক্টয়া আসিয়াছেন, মোগলপক্ষ তাঙ্গতে কখনই নিশ্চিস্ত থাকিবে না । বিশেষতঃ অন্য কোন শাসনকর্তা হইলে না হয়, ততটা ভয়ের সম্ভাবনা ছিল না—কিন্তু অমিতপ্রতাপ, কূটবুদ্ধি দায়েস্তাৰ্থ বৰ্ত্তমান থাকিতে, ইংরাজগণ কোন ক্রমেই নিরাপদ নহেন । *

  • হুগলীর হাঙ্গামা ব্যাপারে, এদেশীয়দের চক্ষে চার্ণক প্রকুষ্ঠই একজন সাহসী বীর বলিয়। ববেচিত হইয়াছিলেন। এ সম্বন্ধে একটী প্রাচীন অপ:ম প্রচলিত আছে। সে আখ্যানটী, গর্ণকের হুগলী পরিত্যাগ ব্যাপারের সহিত সংশ্লিষ্ট । এ দেশীয়ের চার্ণককে ও র্তাহার কৃতকাৰ্য্যগুলিকে, কিরূপভাবে দেখিয়াছিল—তাহা এই অতিরঞ্জিত গল্প হইতেই প্রমাণিত হয় । রটি এই-চার্ণক যে সময়ে হুগলীর কুঠীর অধ্যক্ষ ছিলেন—সেই সময়ে একদিন বাণের তোড়ে কাম্পানীর বাণিজ্যাগার ও ইংরাজদের আবাসভবন ভাঙ্গিয়া যায় ও সমস্ত গৃহাদি নষ্ট হয়। ইহার পর চার্শক-ইংরাজদের ব!সের জন্ত একটা দুইতালা বাড়ী গাঁথিতে আরম্ভ করেন। তখন অনেক পদস্থ মোগল-কৰ্ম্মচারী ও আমীর-ওমরাহ হুগলীতে বাস করিতেন । উRার হুগলীর মোগল-শাসনকৰ্ত্তার নিকট এই বলিয়া নালিশ করেন—“ইংরাজ কোম্পানী যেরূপভাবে-ঘর প্রস্তুত করিতেছে, সে গুলি সেইভাবে উচ্চ হইলে, তাহদের অন্যর-মহলের সমস্ত ব্যাপারই ইংরাজের ছাদে উঠিলেই, দেখিতে পাইবে । তাহাতে জেনানার মর্য্যাদাহানি হইতে পারে” । মোগল-মুবাদার এই অভিযোগ শুনিয়া, এদেশীয় স্থি ও রাজমজুরদিগকে—ইংরাজের কাজ করিতে নিযেধ করেন। উপায়াস্তুর না দেখিয়া টার্ণক, হুগলী হইতে পলায়ন করিতে বাধ্য হন। হুগলীতে তখন অগণিত মোগলসেনা ছিল, কিন্তুচার্লকের লোকবল তাহার তুলনায় অতি কম। মোগলের সহিত প্রতিযোগীতায় অক্ষম টং, চাৰ্ণক হুগলী ত্যাগ করিলেন বটে, কিন্তু গমন সময়ে গুয্যরশ্মি ও আফতাব, ( আতসী) *াটের সাহায্যে, গঙ্গাতটবৰ্ত্তী সমস্ত গৃহগুলিতে আগুন ধরাইয়া দিয়া যান। হুগলী হইতে গণনগর পর্য্যস্ত এই অগ্নিরশি ব্যাপৃত হইয় পড়ে। মোগল শাসনকৰ্ত্তার, চাণকের পলায়ন