পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৬৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ჯ)59ყ• কলিকাতা সেকালের ও একালের । বাটারূপে পরিণত হইয়াছিল। হেষ্টিংসের আমলের অনেক পুরাতন বৃক্ষ, ইতিপূৰ্ব্বে এই স্থানে দেখা যাইত। এখনও তাহার আমলের পুরাতন “লেক” বা ঝিলট বর্তমান। কেবল হেষ্টিংস নহেন, ফ্রান্সিসের স্মৃতির সহিতও এই আলিপুরের নাম বিজড়িত। নবাব মীরজাফরও বহুদিন এই স্থানে বাস করিয়াছিলেন। পলাশী-যুদ্ধের তিন বৎসর পরে, যখন মীরজাফর বাঙ্গলার মসনদ হইতে, গবর্ণর ভান্সিটার্ট কর্তৃক অপস্থত হন এবং তাহার জামাত। মীরকাশেম বাঙ্গলার মসনদে অধিষ্ঠিত হন, সেই সময়ে বৃদ্ধ নবাব গবর্ণমেন্টের সম্মতিক্রমে আলিপুরে আগমন করেন । নবাব মীরজাফর, আলিপুরের কোন স্থানে বাস করিয়াছিলেন, তৎসম্বন্ধে একটু মত বিভিন্নতা আছে। কেহ কেহ বলেন এগ্ৰিহার্টিকলুচরাল সোসাইটীর উদ্যানের অধিকৃত স্থানে তাহার প্রাসাদ ছিল—আর মণিবেগম বর্তমান জুলজিক্যাল-গার্ডেনের অধিকৃত স্থানে বাস করিতেন। আবার অন্য মতে, বৰ্ত্তমান জজ-আদালত বেস্থানে, সেইস্থানেই বাঙ্গালার নবাব বাস করিতেন। পরে এই সমস্ত সম্পত্তি, তিনি ওয়ারেণ হেষ্টিংসকে দান করিয়া যান।* এই কথাই যেন প্রামাণ্য বলিয়া বোধ হয়। ১৭৬৩ খৃঃ অব্দে, মীরজাফর আবার বাঙ্গলার মসনদে বসেন। এই সময়ে আলিপুরের সম্পত্তি র্তাহার হস্তান্তরিত হয়। এ সম্পত্তি তিনি ওয়ারেণ হেষ্টিংসকে দান করেন, কি হেষ্টিংস নবাবের নিকট হইতে ইহা কিনিয়া লয়েন, তাহার কোন সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় না। তবে ইহার কয়েক মাস পরে আমরা দেখিতে পাই—“হেষ্টিংস সাহেব কলিকাতাবোর্ডের নিকট “টলিস্-নালার” উপর—কালিঘাটের সন্নিকটে, একটী পোল

  • মীরজাফর, লর্ড ক্লাইভের প্রতিও যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা দেথাইয়াছিলেন । তিনি ক্লাইভকে তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা নগদ, এক লক্ষ সোণার মোহর, পঞ্চাশ হাজার টাকার জহরত ইত্যাদি বাবত প্রায় পাচ লক্ষ টাকা দান করেন। কারণ ক্লাইভের জন্যই তিনি বাঙ্গলার মসনদে বসিতে পান। উহার দানপত্রের একাংশের ইংরাজী অনুবাদ এই, Three lacs and fifty thousand Rupees in money, fifty thousand rupees in Jewels and one lac in Gold Mohurs, in all five lacs of rupees in money and effects, to the light of my eyes, the Nabob farm in war, Lord Clive the Hero—“Calcutta Past and Present by Miss Blechynden.”

কিন্তু উদার-হৃদয় লর্ড ক্লাইভ নবাব মীরজাফরের এ দান নিজে গ্রহণ করেন নাই । আহত সৈনিক ও তাহদের বিধবাদের প্রতি দয়াত্র চিত্ত হইয় তাহদের সাহায্য জন্য তিনি একট ফণ্ডের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং নবাব প্রদত্ত এই পাঁচ লক্ষ টাকা সেই ফওে দান করেন । t