পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


68 কলিকাতা সেকালের ও একালের । একজন বাঙ্গালী-জমীদার, সেন-সংখ্যা বৃদ্ধি করিতেছে, দুর্গ-প্রতিষ্ঠা করিতেছে, মোগল শক্তির বিরুদ্ধে উখিত হইবার চেষ্টা করিতেছে, এ সংবাদে সেরখা অধৈর্য্য হইয়া—শঙ্করকে ধৃত ও প্রতাপকে নির্জিত করিবার জন্ত, সৈন্যসমেত যশোহরের দিকে যাত্রা করিলেন। প্রতাপাদিত্য র্তাহার গুপ্ত-প্রণিধিগণের মুখে সংবাদ পাইলেন, যে মোগল-শাসনকৰ্ত্তা সেরখা, তাহার সহিত যুদ্ধার্থে যশোহরের দিকে অগ্রসর হইতেছেন। তিনিও নিশ্চেষ্ট রহিলেন না। সেরখাকে বাধা দিবার উদ্যোগ আয়োজন সবই সম্পূর্ণ হইল। তিনি নিজেই উদ্যোগী হইয়া সৰ্ব্বপ্রথমে সের খার সেনাগণকে আক্রমণ করিলেন। এ যুদ্ধের পরিণামে, সেরখ পরাজিত হইয়া পলায়ন করেন। মোগলের সহিত যুদ্ধে-প্রতাপ এই প্রথম জয়লাভ করিলেন। এই অসম্ভাবিত জয়-লাভে প্রফুল্লচিত্ত হইয়া, প্রতাপাদিত্য, তাহার মিত্ররাজ বর্গকে—এই বিজয় সংবাদ প্রদান করিলেন । এই সংবাদে, বঙ্গের দ্বাদশভৌমিকগণের অনেকেই মহা-সাহসী হইয়া, মোগলদের উপর অত্যাচার আরম্ভ করে। প্রতাপাদিত্যচরিতে লিখিত আছে—“এই সময়ে সকলেই স্বীয় শক্তি অনুসারে, মোগল সম্রাটের অনিষ্ট চেষ্টা কুরিতে ক্রটা করিল না। কেহ বা দিল্লীগামী মোগল-রাজকোষ লুন্ঠন, কেহ বা মোগলু সৈন্য-নিবাসে অগ্নি প্রদান, কেহ বা অল্পসংখ্যক মোগলসেনাকে দল বাধিয়া আক্রমণ, কেহ । বা মোগলদের যাতায়াতের পথে, রাস্তা-ঘাট পোল সমূহ ভাঙ্গিয়া যথেষ্ট পরিমাণে—অনিষ্ট-সাধন করিতে লাগিলেন। সময় বুঝিয়া, বিক্রমপুরাধিপতি কেদাররায়ও মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-ঘোষণা করিলেন । এই সময়ে সমগ্র বন্ধ এক প্রাণে মোগলশক্তির বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হইল ।. e প্রতাপের শোর্য্য-বীর্য্যের কাহিনী, পরিশেষে সম্রাট-দরবারে আকবর সাহের কাণে পৌছিল। বসন্তরায়ের জামাতা-রূপরাম বস্ব, রাজপুত্র রাঘবকে (কচুরায় ) লইয়া, দিল্লী অভিমুখে পলায়ন করিয়াছিলেন। রাজধানীতে পৌছিয়া, রূপরাম নানা কৌশলবিলম্বনে বাদসাহের সহিত পরিচিত হইলেন। অবসর বুঝিয়া, তিনি প্রতাপ কর্তৃক তাহার শ্বশুরের হত্যাকাও, কচুরায়ের উদ্ধার, ইশাখার সহিত প্রতাপের যুদ্ধ, প্রভৃতি সমস্ত ব্যাপার, সম্রাটের কর্ণগোচর করেন। আকবরসাহ–প্ৰতাপের এই পদ্ধার কথা শুনিয়া, ইব্রাহিম খা নামক একজন মোগলসেনাপতিকে, সৈন্য-সমেত বঙ্গদেশে প্রেরণ করেন। -