পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হিন্দুমুসলমান মাটিতে ভাত খাওয়ার মতো । বর্তমান রাষ্ট্রক উদযোগে বোম্বাই প্রদেশে আন্দোলনের কাজটা সব চেয়ে সবেগে চলতে পেরেছিল তার অন্ততম কারণ, সেখানে হিন্দুমুসলমানের বিরোধ বধিয়ে দেবার উপকরণ যথেষ্ট ছিল না। পালিতে হিন্দুতে ছুই পক্ষ খাড়া করে তোলা সহজ হয় নি। কারণ, পার্সি সমাজ সাধারণত শিক্ষিত সমাজ, স্বদেশের কল্যাণ সম্বন্ধে পার্সির বুদ্ধিপূর্বক চিস্তা করতে জানে, তা ছাড়া তাদের মধ্যে ধর্মোন্মত্ততা নেই। বাংলাদেশে আমরা আছি জতুগৃহে, আগুন লাগাতে বেশি ক্ষণ লাগে না। বাংলাদেশে পরের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে যখনই নামি ঠিক সেই সময়টাতেই নিজের ঘর সামলানো অসাধ্য হয়ে ওঠে। এই দুর্যোগের কারণটা আমাদের এখানে গভীর করে শিকড় গেড়েছে, এ কথাটা মেনে নিতেই হবে। এ অবস্থায় শান্তমনে বুদ্ধিপূর্বক পরস্পরের মধ্যে সন্ধি-স্থাপনের উপায়-উদভাবনে যদি আমরা অক্ষম হই, বাঙালিপ্রকৃতি-সুলভ হৃদয়াবেগের বেীকে যদি কেবলই জেদ জাগিয়ে স্পর্ধা পাকিয়ে তুলি, তা হলে আমাদের ছঃখের অস্ত থাকবে না এবং স্বাজাতিক কল্যাণের পথ একাস্ত দুর্গম হয়ে উঠবে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ চোখ বুজে বলেন, সবই সহজ হয়ে যাবে যখন দেশটাকে নিজের হাতে পাব। অর্থাৎ, নিজের বোঝাকে অবস্থাপরিবর্তনের কাধে চাপাতে পারব এই ভরসায় নিশ্চেষ্ট থাকবার এই ছুতো । কথাটা একটু বিচার করে দেখা যাক । ধরে নেওয়া গেল গেtল-বৈঠকের পরে দেশের শাসনভার আমরাই পাব । কিন্তু, দেশটাকে হাত-ফেরাফেরি করবার মাঝখানে একটা সুদীর্ঘ সন্ধিক্ষণ আছে। সিভিল-সাভিসের মেয়াদ কিছুকাল টিকে থাকতে বাধ্য। কিন্তু, সেইদিনকার সিভিল সাভিস হবে ঘা-খাওয়া নেকড়ে বাঘের মতো । মন তার গরম হয়ে থাকবার কথা। সেই \రి 9)