পাতা:কালান্তর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নারী পারবে না। একটিমাত্র বড়ে আশ্বাসের কথা এই যে, কল্পাস্তের ভূমিকায় নূতন সভ্যতা গড়বার কাজে মেয়ের এসে দাড়িয়েছে— প্রস্তত হচ্ছে তারা পৃথিবীর সর্বত্রই। তাদের মুখের উপর থেকেই যে কেবল ঘোমটা খসল তা নয়— যে ঘোমটার আবরণে তারা অধিকাংশ জগতের আড়ালে পড়ে গিয়েছিল সেই মনের ঘোমটাও তাদের খসছে। যে মানবসমাজে তার জন্মেছে সেই সমাজ আজ সকল দিকেই সকল বিভাগেই মুস্পষ্ট হয়ে উঠল তাদের দৃষ্টির সম্মুখে । এখন অন্ধ সংস্কারের কারখানায় গড়া পুতুলগুলো নিয়ে খেলা করা আর তাদের সাজবে না। তাদের স্বাভাবিক জীবপালিনী বুদ্ধি, কেবল ঘরের লোককে নয়, সকল লোককে রক্ষার জন্তে কায়মনে প্রবৃত্ত হবে । আদিকাল থেকে পুরুষ আপন সভ্যতাদুর্গের ইটগুলো তৈরি করেছে নিরস্তর নরবলির রক্তে— তার নির্মমভাবে কেবলই ব্যক্তিবিশেষকে মেরেছে কোনো-একটা সাধারণ নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে । ধনিকের ধন উৎপন্ন হয়েছে শ্রমিকের প্রাণ শোষণ করে ; প্রতাপশালীর প্রতাপের আগুন জালানো রয়েছে অসংখ্য দুর্বলের রক্তের আহুতি দিয়ে ; রাষ্ট্রস্বার্থের রথ চালিয়েছে প্রজাদের তাতে রজুবদ্ধ করে । এ সভ্যতা ক্ষমতার দ্বারা চালিত, এতে মমতার স্থান অল্প । শিকারের আমোদকে জয়যুক্ত ক’রে এ সভ্যতা বধ করে এসেছে অসংখ্য নিরীহ নিরুপায় প্রাণী ; এ সভ্যতায় জীবজগতে মানুষকে সকলের চেয়ে নিদারুণ করে তুলেছে মামুষের পক্ষে এবং অন্ত জীবের পক্ষে । বাঘের ভয়ে বাঘ উদবিগ্ন হয় না, কিন্তু এ সভ্যতায় পৃথিবী জুড়ে মামুষের ভয়ে মানুষ কম্পান্বিত। এই রকম অস্বাভাবিক অবস্থাতেই সভ্যতা আপন মুঘল আপনি প্রসব করতে থাকে। আজ তাই শুরু হল । সঙ্গে সঙ্গে ভীত মামুব শাস্তির কল বানাবার চেষ্টায় প্রবৃত্ত, কিন্তু কলের শাস্তি তাদের কাজে লাগবে না শাস্তির উপায় যাদের অস্তরে নেই। ব্যক্তি-হননকারী el 3