পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৩৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৯২ ভষ্মজননি খলু মুনিবর কন্যে । নরকনিবারিনি ত্রিভুবন ধন্তে ॥ [ মহাভারত | حصحصص– চিন্তাযুক্ত যুধিষ্ঠির আপন আশ্রমে। রহিতে নাছিক শক্তি ভক্ত-দুঃখ জানি । দ্রৌপদীরে অসিয়া কহেন ক্রমে ক্রমে ॥ ধৰ্ম্মের যতেক কথা দ্রৌপদী শুনিল । উপায়ন দেখি কিছু প্রমাদ গণিল ॥. কৃষ্ণ বলে যে কথা কহিলা মহাশয় । হেন বুঝি বিধি কৈল অকালে প্রলয় ] সীশিষ্য অতিথি হৈল উগ্রতপা ঋষি । আমার নাহিক শক্তি আজিকার নিশি ॥ রজনী প্রভাতে কালি সূর্য্যের প্রসাদে । দশলক্ষ হইলে ভুঞ্জাব অপ্রমাদে ॥ ধৰ্ম্ম বলিলেন কৃষ্ণা উত্তম কহিলে । মুনি ক্রোধানলে আজি সবে দগ্ধ হৈলে ॥ কি কৰ্ম্ম করিবে কালি প্রভাতে কে জানে তুর্কবাসার ক্রোধ সহে কাহার পরাণে ॥ দ্রৌপদী কহিল এই দৈবের সংযোগ । আমার কৰ্ম্মের ফল কে করিবে ভোগ ॥ স্বকৰ্ম্মের চিহ্ন যদি হুৈত মহারাজ । দিবসে আসিত তবে মুনির সমাজ ॥ আমা সব হৈতে কিছু নহে প্রতীকার । কেবল পারেন কৃষ্ণ করিতে উদ্ধার ॥ দ্রৌপদীর বচন শুনিয়া যুধিষ্ঠির । চিন্তায় আকুল অতি শরীর অস্থির ॥ কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলিয়া ডাকেন উচ্চৈঃস্বরে । পার কর জগন্নাথ বিপদ সাগরে ॥ পার কর আমারে গোবিন্দ মহাশয় । রাখহ পাণ্ডবকুল মজিল নিশ্চয় ॥ তোম। হেন আছে যার মহারত্ব নিধি । এমন সংযোগ তীরে মিলাইল বিধি ৷ তোমার পাণ্ডব-বন্ধু বলি লোক কয় । সে কথা পালন কর ওহে দয়াময় ॥ কৃষ্ণ সহ পঞ্চভাই আকুল হইয়া । ডাকিতেছে কোথা কৃষ্ণ-উদ্ধার আসিয় ॥ হেথায় কৌতুকে কৃষ্ণ দ্বারকানগরে । শয়ন করিয়াছেন রুক্মিণীর ঘরে ॥ ব্যগ্ৰ হ’য়ে ভক্ত ডাকে বলি জগন্নাথ । বাজিল অস্তরে যেন কণ্টকের ঘাত ॥ ব্যস্ত হৈয়া উঠিয় বৈসেন চক্রপাণি ॥ চিন্তান্বিত অত্যন্ত করেন ছটফট । রুক্মিণী কহেন দেখি করিয়া কপট ॥ চিত্তের চাঞ্চল্য আজি দেখি কি কারণ। হেন বুঝি কোথায় যাইতে আছে মন ॥ অরণ্যে দ্রৌপদী সখী আছয়ে যথায় ! অকস্মাৎ মনে হৈল বুঝি অভিপ্রায় ॥ শ্ৰীকৃষ্ণ কহেন শুন প্রাণপ্রিয়তম । আদ্যকণর এই অপরাধ কর ক্ষম। ॥ ভক্তাধীন আমারে যে করিল বিধাত । আমার কেবল ভক্ত স্থখদুঃখদাত ॥ মম ভক্তজন যথা তথা থাকে স্থখে । আমিও তথায় থাকি পরম কৌতুকে ; মম ভক্তজন দেখ যদি তুঃখ পায় ! সে দুঃখ আমার হেন জানিও নিশ্চয় । এ কারণে ভক্ত-দুঃখ খণ্ডাই সকল । নহিলে কি হেতু নাম ভকত-বৎসল । আমার একান্ত ভক্ত রাজা যুধিষ্ঠির । বিপদ-সাগরে পড়ি হয়েছে অস্থির ॥ যতক্ষণ নাহি দেখি ধৰ্ম্মের নন্দন । ততক্ষণ মম দুঃখ না হবে খণ্ডন ॥ এই আমি চলিলাম নথ! ধৰ্ম্মমণি । এত শুনি কহিলা রুক্মিণী ঠাকুরাণী । তোমার একান্ত ভক্তি আছয়ে পাণ্ডবে । সৰ্ব্বকাল এইরূপ জানি অনুভবে | বিশেষ করিলে বশ দ্রুপদের স্থত । তোমার বাসনা সদাকাল থাক তথা । গমন রজনীকালে উচিত না হয় । সে কারণে নিবেদন করি মহাশয় ॥ যাইবে অবশু কালি তপন উদয় । যে ইচ্ছা তোমার কর তুমি ইচ্ছাময় । শ্ৰীকৃষ্ণবলেন সত্য কহিলে যে তুমি । ক্ষণেক তথায় যদি নাহি যাই আমি ৷ সবংশে মজিবে রাজা ধৰ্ম্মের নন্দন । আমার গমনে তবে কোন প্রয়োজন ।