পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৬২ চক্রঞ্চপঞ্চবাণাংশ্চ ধারয়ন্তীঞ্চ দক্ষিণে ॥ [ মহাভারত্ব | বিশেষ আছেন বসুদেব মহামতি । পিতা স্থিতে পুত্রে পূজা কহ কোন রীতি ॥ । যদি বা পূজিবে ইথে আচার্য্যের ক্রমে । দ্রোণু ত্যজি কৃষ্ণে কেন পূজিলা প্রথমে ॥ যদ্যপি বলিয়া ঋষি পূজিবে রাজন । গোপালে পুজহ কেন ত্যজি দ্বৈপায়ন ॥ রাজক্রমে পূজিবারে-চাহ নৃপবর । দুৰ্য্যোধন ত্যজি কেন পুজ দামোদর ॥ যোদ্ধাগণ পুজিবারে যদি ছিল মন । কর্ণবীর ছাড়ি কেন পৃজ নারায়ণ ॥ প্রিয় শিষ্য শ্রীরামের কর্ণ মহাবীর । ভুজবলে শাসিত নৃপতি পৃথিবীর ॥ অশ্বথাম কৃপসেন ভীষ্মক নৃপতি । আমা আদি করি রাজা আছে মহামতি ॥ গণিলা কাহার মধ্যে এই গোপালেরে । কি বুঝিয়া অৰ্ঘ্য দিল সভার ভিতরে ॥ প্রিয়বন্ধু বলি যদি কৃষ্ণে কৈলে পূজা । তবে কেন আপনি আনিলা সর্ববরাজ ॥ ক্ষত্রিয় মধ্যেতে এই পৃথিবী ভিতরে । এমন অন্যায় কেহ কভু নাহি করে ॥ ধৰ্ম্মবাঞ্ছা করিয়াছে ধৰ্ম্মের নন্দন । ধৰ্ম্মকাৰ্য্য হেতু সবে করিল গমন ॥ নিমন্ত্রিয়া জানিয়া করহ অপমান । এই হৈতে ধৰ্ম্ম তোর হৈল সমাধান ॥ হে গোপাল তোমার বদনে নাহি লাজ । কেমনে লইলা অৰ্ঘ্য এ সবার মাঝ ॥ স্বান যেন হবি খায় পাইয়া নির্জনে । কোন তেজে অমান্য করিলা রাজগণে ॥ এ সভায় তব পূজা হৈল বড় শোভা । নপুংসক জনের হৈল যেন বিভা ৷ অন্ধস্থানে অন্ধ যেন জিজ্ঞাসয়ে পথ । সভামাঝে তব পূজা হৈল সেই মত ॥ দুষ্ট ভীষ্ম দুষ্ট কৃষ্ণ দুষ্ট এ রাজন। দুষ্টের সভায় নাহি রহি কদাচন ॥ যেই ছার সভায় স্থজনে অপমান । ক্ষণমাত্র-তথায় ন রহে জ্ঞানবান ॥ এত বলি উঠিয়া চলিল শিশুপাল। T সঙ্গেতে চলিল দুষ্ট কতেক ভূপাল ॥ শীঘ্ৰগতি যুধিষ্ঠির ত্যজি সিংহাসন । শিশুপাল প্রতি কহে মধুর বচন ॥ এ কৰ্ম্ম তোমার যোগ্য নহে চেদিশ্বর : যজ্ঞ হৈতে ল’য়ে যাও যত নৃপবর ॥ কি কারণে নিন্দ কর গঙ্গার নন্দনে । আপনি দেখহ বড় বড় রাজগণে ॥ কৃষ্ণের পূজায় কার’ নাহি অপমান, মুনিগণ যত সবে আনন্দ বিধান ॥ । ! পিতামহ জানেন যে গোবিন্দের তত্ত্ব । প্রথমে পুজিয়া তার রাখেন মহত্ত্ব ॥ ভীষ্ম বলিছেন শুন ধৰ্ম্ম গুণাধার । শান্তিযোগ্য নহে দামুঘোষের কুমার ॥ কৃষ্ণপুজা করিবারে নিন্দে যেইজন। সে জনারে মান্য নাহি করে। কদাচন ॥ দুষ্টবুদ্ধি শিশুপাল অল্প জ্ঞানবান । রাজগণ মধ্যে তোমা না লিখিবা নাম । পূজা করে কৃষ্ণপদ ত্ৰৈলোক্য অবধি । আমি কিসে গণ্য যারে পুজা করে বিধি ॥ বহু বহু জ্ঞানবৃদ্ধ লোক মুখে শুনি । কৃষ্ণের মহিমা নাহি জানে পদ্মযোনি ॥ জন্ম হৈতে ইহার মহিমা অগোচর । আমি কি বলিব সব খ্যাত চরাচর ॥ বিপ্রমধ্যে পূজা পায় জ্ঞানী বৃদ্ধগণ । ক্ষত্রমধ্যে বলবান করি যে পূজন ॥ বৈশ্যমধ্যে পূজা করে অগ্রে বহুধনে । শূদ্র মধ্যে পূজা পায় বয়োধিক জনে ॥ যত ক্ষত্ৰগণ আছে সভার ভিতরে । কোন জন জ্ঞাত নহে আছে দামোদরে ॥ কোন রূপে কৃষ্ণ নূ্যন এ সভার মাঝ । কুলে বলে কৃষ্ণ তুল্য আছে কোন রাজ । দান যজ্ঞ ধৰ্ম্ম আর কীর্তি সম্পদেতে । সংসারের যত গুণ আছয়ে কৃষ্ণেতে ॥ ংসারের যত কৰ্ম্ম যে জন করয় । গোবিন্দেরে সমপিলে সৰ্ব্ব সিদ্ধ হয় ।