পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সভাপর্ব ৷ ] ভীমে নিবারিয়া কহে গঙ্গার নন্দন । ই শিশুপালের শুনহ বিবরণ ॥ চদীরাজগৃহে জন্ম হইল যখন । গরিগোটা হস্ত আর হৈল ত্রিলোচন ॥ চন্মমাত্র ডাকিলেন গর্দভের প্রায় । বপরীত দেখি কম্প হৈল বাপ মায় ॥ জন্মমাত্র ইহারে ত্যজিতে কৈল মন । মচিম্বিতে শুনে শূন্য অস্থিরী বচন ॥ শ্ৰীমন্ত বলিষ্ঠ এই হইবে নন্দন । করিও ভয়, কর ইহারে পালন ॥ বপরীত দেখি যদি চিন্তা কর মনে । চহার কারণ কিছু শুন সাবধানে ॥ যেইজন এই শিশু করিবে সংহার । দুই ভুজ লুকাইবে পরশে তাহার ॥ চতুভূজ হয়েছিল চেদীর নন্দন। রাজ্যে রাজ্যে শুনিল যতেক রাজগণ ॥ মাশ্চর্য্য শুনিয়া সবে যায় দেখিবারে । দশ বিশ রাজা নিত্য যায় তার পুরে ॥ সবাকারে দামুঘোষ করয়ে অৰ্চন । কোলে দেয় সবাকারে আপন নন্দন ॥ তবে কতদিনে শুনি হেন বিবরণ । দেখিতে গেলেন তথা রাম নারায়ণ ॥ দেখি পিতৃস্বস করে বহু সমাদর। হৃষ্টচিত্তে ভুঞ্জাইল দুই সহোদর ॥ মেহেতে বালক লৈয়া দিল কৃষ্ণকোলে । অমনি হু-হস্ত খসি পড়ে ভূমিতলে ॥ কপালের নয়ন কপালে লুকাইল । দেখিয়া ইহার মাত সশঙ্ক হইল ॥ করযোড় করি বলে দেব দামোদরে । এক বর মাগি বাপু আজ্ঞা কর মোরে ॥ তয়ে কম্পমান হৈল আমার শরীর । ষ্টুমি ভয় ভাঙ্গিলে শরীর হয়.স্থির ॥ । জীরষ্ণ বলেন মাত না ভাবিও মনে । কোন বর আজ্ঞা কর দিব এইক্ষণে ॥ - মহাদেবী বলে মোরে এই বর দিবা । এ পুত্রের অপরাধ সতত ক্ষমিবা ॥ ত্ৰিবলীবলয়োপেতনাভিনাল-মৃণালিণীং । বহু অপরাধ এই করিবে তোমার। ২৬৫ মোরে দেখি অপরাধ ক্ষমিবে উহার ॥ কৃষ্ণ বলে না লঙ্ঘিব বচন তোমার । শত অপরাধ আমি ক্ষমিব ইহার । অবশু ক্ষমিব দোষ একশতবার । তোমার আগ্ৰেতে মাতা করি অঙ্গীকার ॥ পূৰ্ব্বে হইয়াছে এই রূপেতে নিৰ্ব্বন্ধ । মুঢ় শিশুপাল দুই চক্ষু স্থিতে অন্ধ ॥ হে পুত্র ডাকিছে দুষ্ট যুদ্ধের কারণ । তব কৰ্ম্ম নহে ইহা কুন্তীর নন্দন ॥ শ্ৰীকৃষ্ণের অংশ কিছু আছয়ে ইহায় ॥ সে কারণে ইহা সহ যুদ্ধ না যুয়ায় ॥ হে পুত্র কে আছে আজি সংসার ভিতরে । কাহার শকতি মোরে গালি দিতে পারে ॥ কুবচন বলিল যে এই কুলাঙ্গারে । হীনবীৰ্য্য হৈলে সেও নারে সহিবারে ॥ বিষ্ণু অংশ কিছু আছে ইহার শরীরে । তাই তৃণবৎ মানে আমা সবাকারে ॥ ভাষ্মের এতেক বাক্য শুনি চেদীশ্বর। হাস্য পরিহাস্য করি বলয়ে উত্তর ॥ ভাল হৈল শক্র মম নন্দের নন্দন । তোর হেন স্থতি তারে কিসের কারণ ॥ লোকের বর্ণন যথা করে ভট্টগণ । এত যদি কর তুমি পরের স্তবন। যত স্তুতি কৈলে তুমি নন্দের নন্দনে । অন্য জনে কৈলে বর পেতে এতক্ষণে ॥ বহলাক রাজার যদি করিতে স্তবন। মনোনীত বর তবে পাইতে এক্ষণ ॥ মহাদাতা কর্ণ বার বিখ্যাভ সংসারে । জরাসন্ধ রাজা যারে হরিলা সমরে ॥ শ্রবণে কুণ্ডল যার দেবের নিৰ্ম্মাণ । অভেদ্য কবচ অঙ্গে সূৰ্য্য দাপ্তমান ॥ অঙ্গ রাজ্যেশ্বর সেই দানে অকাতর । কর্ণে স্তুতি করিলে পাইতে ভাল বর ॥ ন্দ্রেীণ দ্রোণি পিতাপুত্রে বিখ্যাত সংসারে। মুহুর্তেকে ভূমণ্ডল পারে জিনিবারে ॥