পাতা:কাশীদাসী মহাভারত.djvu/৪৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8Noe ব্যাঘ্ৰত্বক পরিধানমজনিলয়ং শ্ৰীনীলকণ্ঠং ভজে । [ মহাভারত সিংহনাদ মুহুমুহুঃ গর্জে সৈন্যগণ । ধনুক নির্ঘেনে ঘন শস্থের নিঃস্বন ॥ বিবিধ বাদ্যের শব্দে কর্ণে লাগে তালি । অন্ধকার হৈল সৰ্ব্ব আচ্ছাদিল ধূলি ৷ বাণের আগুন মাত্র ক্ষণে ক্ষণে জ্বলে । অন্ধকার রাত্রে যেন মুকুতা উজলে ॥ মুষল মুদগর শুল ইস্ত্র চক্র শেল । পরশু পটিশ জাঠি মল্ল কুম্ভ ছেল ৷ পড়িল অনেক সৈন্য পৃথিবী আচ্ছাদি । ধূলি অন্ধকার কৈল রক্তে বহে নদী ॥ মুকুট কুণ্ডল মুণ্ড যায় গড়াগড়ি । বুকে শেল বাজি কেহ ভূমিতলে পড়ি ॥ সব্যহস্ত খড়গ সহ পড়িল ভূতলে । পদ কাটা গেল কার’ গড়াগড়ি বুলে ৷ পৰ্ব্বত আকার গজ ভূমে দন্ত দিয়া । পড়িল ভুমেতে সৈন্য অনেক দলিয় ॥ হেনমতে যুদ্ধ হৈল দ্বিতীয় প্রহর । কেহ পরাজিত নহে কাণ্ড ঘোরতর । ক্রোধে শতানীক বার সমরে প্রবেশে ; এক শত রথী মারে চক্ষুর নিমিষে ॥ মুদিরাক্ষ মারিলেক শত সেনাপতি । শত শত মারিল বিরাট নরপতি ॥ বিরাট নৃপতি দেখি নৃশৰ্ম্ম! ধাইল । দুই মত্ত ব্যাঘ্ৰ যেন একত্র মিলিল ॥ ক্রোধেতে বিরাট রাক্ত। মারে দশ শর । চারি অশ্বে মারে চারি রথের উপর ॥ রথধ্বজে দুই, দুই স্থশৰ্ম্ম। উপরে । অস্ত্র কাটি স্বশৰ্ম্ম ফেলিল কত দূরে ৷ পঞ্চশত বাণ মারে বিরাট উপর । কাটিয়া ফেলিল তাহ মৎস্যের ঈশ্বর ॥ দেখিয়া ত্রিগর্ভপতি আতি শীঘ্ৰগতি । লাফ দিয়া ভূমিতে নামিল মহামতি ॥ হাতে গদা করিয়া ধাইল মহাবেগে । সিংহ যেন ধরিবারে যায় মত্ত মৃগে ॥ চারি অশ্ব মারিল মারিয়া গদা বাড়ি । সারথির কেশে ধরি ভূমিতলে পাড়ি ॥ জীবগ্রহে ধরিল বিরাট নরপতি । আপনার রথে ল’য়ে তোলে শীঘ্ৰগতি ॥ রাজা বন্দী হৈল, সৈন্য হৈল ভঙ্গীয়ান । চতুৰ্দ্দিকে পলায় লইয়া নিজ প্রাণ ॥ বড় বড় যোদ্ধাগণ ত্যজি ধনুঃশর । আপনি চালায়ে রথ পলায় সত্বর ॥ উভয়ের মত্ত গজ গৰ্জিয়া পলায় । অশ্বারোহী পদাতিক পাছু নাহি চায় । পলাইল সৰ্ব্ব সৈন্য কেহ নাহি আর । রাখিতে না পারে সৈন্য বিরাট-কুমার ! রণজয় করিয়া ত্রিগর্ত নরপতি । বিরাটে লইয়। সে চলিল হৃষ্টমতি ॥ জয়ধ্বনি করিয়া বাজায় বাদ্যগণ । মৎস্যরাজ-সৈন্য মধ্যে হইল রোদন ; ভ্রাতৃপুত্র মন্ত্রিপুত্ৰ হাহাকারে কান্দে ভয়ে পলাইল সৈন্য চুল নাহি বন্ধে ৷ সন্ধ্যাকাল হইল ভাস্কর অস্ত গেল । কাহারে দেখি কেব। কোথায় চলিল । দেখিয় ধৰ্ম্মের পুত্ৰ কহেন অনুজে । দাণ্ডাইয়া কি দেখহ ভীম মহাভুজে । বহু উপকারী এই বিরাট নৃপতি । বৎসরেক অজ্ঞাত গৃহুেতে দিল স্থিতি । যার যে কামনা মত পাইলা যে স্থান তাহারে লইয়া যায় অামা বিদ্যমান ॥ দণ গুইয়া দেখ তুমি নহে ক্ষত্ৰধৰ্ম্ম । অনুগত বিশেষ আমার এই কৰ্ম্ম ৷ শীঘ্র কর বিরাট নৃপতি বিমোচন । যাবৎ শত্রুর হাতে না হয় নিধন ॥ এত শুনি ভীম বলে ঘোড় করি পাণি তব আজ্ঞ চাহিয়া আছি যে নৃপমণি ৷ এখন আমার কৰ্ম্ম দেখ দাণ্ডাইয়া । বিরাটে আনিয়া দিব স্বশৰ্ম্ম মারিয়া ॥ এই যে দেখহ শাল সকল বিস্তার } আমার হাতের যোগ্য গদার আকার : এই বৃক্ষাঘাতে আমি মারিব সকল । শেষ করিব আমি ত্রিগর্তের দল ।