পাতা:ক্রমশ ফসিলের মত একটা শব্দ.pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রবঞ্চিত প্রেমিকের চোখে প্রেমিকার জন্মদিন ধারালো সাপের জিভের মতো তোমার এগ শ্যাম্পূকরা ঈষৎ লালচে চুলগুলো এখন হাওয়ায় হিসহিস ক’রছে, নতুন শিকারকে বুঝি ঠিকমতে কক্ত করতে পারোনি আজও ! বাঁঝরা করা উইঢিপির মতো স্তন দুটো থেকে প্রাক্তন দাত আর নখের স্মৃতি মুছে দেবার অক্লাস্ত চেষ্টা ক’রে যাচ্ছে সিস্থলের সবুজ ফেনা । অণর শরীরের অসংখ্য গভীর গুহা থেকে সুপ্রাচীন অদিমতার মতো তেড়ে আসছে জোরালো ইনটিমেট । তোমার এখন মনে পড়বার কথা নয় – আজি মাইল ষাটেক দূরে দুটো ঘুমস্ত কুকুরের পাশে কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় কোজাগরী পূর্ণিমার পুরে লক্ষ্মীছাড়া হ’য়ে ব’সে রয়েছি। সকালে জলখাবার খাইনি, পকেটে শুধু নিরামিষ ভাত তরকারী খাবার মতো টাকা দেড়েকের বাজেট ! পূজার ছুটির পরে স্কুল খুললে জয়েন করার সম্ভাবনা । এখনও বেশ কটাদিন পিপড়ের পোদটিপে চালাতে হবে, চা-চারমিনারে বেহেড বেহিসেবী হওয়া চলবেন । অথচ আজ তোমার জন্মদিনে তোমার মৃগন্ধী মাথাটা একটু হেসে কাত হ’লেই আমারও মাংস পোলাও চপকাটলেট চা-চুমোর ঢালাও ব্যবস্থা থাকতে পারতো – অামি ও সেকেণ্ড হ্যা গু মার্কেটে ঘড়ি, প্রেসিডেন্সির রেলিংয়ে প্রাণের বইপত্তর বিক্রি ক’রে ইণ্ডিয়ান সিল্ক হাউস থেকে অনায়াসে দেতে হাসি হাসতে হাসতে বেরিয়ে আসতে পারতুম ! জানি, তোমার বান্ধবীরা এখন সমস্ত প্রতীকী উপহারের লিস্ট তৈরি ক’রছে – এই নতুন প্রেমিকদের সকলকেই একদিন উদ্বাস্তু হ’য়ে ঘুমস্ত কুকুরের পাশে কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায় নিরামিষ ভাত তরকারী খাবার জন্যে চারমিনার পুড়িয়ে দুপুরের ভদ্রস্ত সময় পর্যস্ত অপেক্ষা করতে হবে । আর তুমি গভীর রাত্তিরে কুহুম কুঙ্কম গরম জলে ফাউণ্ডেশান তুলতে তুলতে জটিল হিসেব নিকেশের মধ্যে ডুবে যাবে – কারেন্সিনোটের কস্টিপাথরে তোমার মাংসাশী প্রেমকে ঘষে ঘষে দেখবে, দেখবে বয়স্ক শালগাছটা তোমার টগবগে যৌবনকে ঠিকঠাক বেঁধে রাখতে পারবে কিনা । তারপর চূড়ান্ত অভিনয়ের চরম ক্লাস্তিতে রহস্যময় নীল আলোয় আঁচল খসিয়ে পিরামিডের জংধরা পাল্লার মতো রাউজের বোতাম খুলবে, ব্রেসিয়ারের ষ্ট্র্যাপে চিল দিয়ে উইঢিপির স্মৃতির ওপর আঙুল রাখবে, শাড়ি আর শায়াটা একটু আলগা ক’রে শরীরের প্রদর্শনী শেষ ক’রতেই তোমারই দুপায়ে থেতলানো তোমার আত্মা “শাস্ত’ ব’লে কঁকিয়ে কেঁদে উঠবে। f