পাতা:গল্পগুচ্ছ (প্রথম খণ্ড).djvu/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গিন্নি ছাত্রবৃত্তি ক্লাসের দুই-তিন শ্রেণী নীচে আমাদের পূণ্ডিত ছিলেন শিবনাথ । তাহার গোফদাড়ি কামানে, চুল ছাট এবং টিকিট হ্রস্ব । তাহাকে দেখিলেই বালকদের অন্তরাত্মা শুকাইয়া যাইত । প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়, যাহাদের হুল আছে তাহদের দাত নাই। আমাদের পণ্ডিতমহাশয়ের দুই একত্রে ছিল । এ দিকে কিল চড় চাপড় চারাগাছের বাগানের উপর শিলবৃষ্টির মতো অজস্র বর্ষিত হইত, ও দিকে তীব্র বাক্যজালায় প্রাণ বাহির হইয়ু যাইত। ইনি আক্ষেপ করিতেন, পুরাকালের মতো গুরুশিষ্যের সম্বন্ধ এখন আর নাই ; ছাত্রেরা গুরুকে আর দেবতার মতো ভক্তি করে না ;এই বলিয়া আপনার উপেক্ষিত দেবমহিমা বালকদের মস্তকে সবেগে নিক্ষেপ করিতেন ; এবং মাঝে-মাঝে হুংকার দিয়া উঠিতেন, কিন্তু তাহার মধ্যে এত ইতর কথা মিশ্রিত থাকিত যে তাহাকে দেবতার বজ্রনাদের রূপান্তর বলিয়া কাহারওঁ ভ্রম হইতে পারে না , বীপান্ত যদি বজ্রনাদ সাজিয়া তর্জনগর্জন করে, তাহার ক্ষুদ্র বাঙালিমূর্তি কি ধরা পড়ে না। যাহা হউক, আমাদের স্কুলের এই তৃতীয়শ্রেণী দ্বিতীয়বিভাগের দেবতাটিকে ইন্দ্র চন্দ্র বরুণ অথবা কার্তিক বলিয়া কাহারও ভ্রম হইত না ; কেবল একটি দেবতার সহিত র্তাহার সাদৃশু উপলব্ধি করা যাইত, তাহার নাম ধম ; এবং এতদিন পরে স্বীকার করিতে দোষ নাই এবং ভয়ও নাই, আমরা মনে মনে কামনা করিতাম, উক্ত দেবালয়ে গমন করিতে তিনি যেন আর অধিক বিলম্ব না করেন । কিন্তু এটা বেশ বুঝা গিয়াছিল, নবৃদেবতার মতো বালাই আর নাই। স্বরলোকবাসী দেবতাদের উপদ্রব নাই। গাছ হইতে একটা ফুল পাড়িয়া দিলে খুশি হনু, না দিলে তাগাদা করিতে আসেন না । আমাদের নরদেবগণ চান অনেক বেশি, এবং আমাদের তিলমাত্র ক্রটি হইলে চক্ষুদ্ধটাে বক্তবর্ণ