পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পসল্প পক্ষে সহজ হবে না। এত ভার সইবে না। ক্রমে চাদ উপরে উঠে গেল, ঘরের মধ্যে ছায়া পড়ল, চর সিমুগাছের ছায়ায় মাথা নেড়ে চলে গেল । সেদিন আমি খবর পেলুম, তুমি পরীস্থানের পরী; পৃথিবীর মাটির ভারে বাধা পড়ে গেছ । * কুসমি বললে, আচ্ছা দাদামশায়, আমি পরীস্থান থেকে এলুম কী করে। আমি বললুম, সেখানে একদিন তুমি পারিজাতের বনে প্রজাপতির পিঠে চড়ে উড়ে বেড়াচ্ছিলে, হঠাৎ তোমার চোখে পড়ল দিগন্তের ঘাটে এসে ঠেকেছে একটা খেয়ানৌকো। সেটা সাদা মেঘ দিয়ে গড়, হাওয়া লেগে তুলছে। তোমার কী মনে হল, তুমি উঠে পড়লে সেই নৌকোয় । নৌকো চলল ভেসে, ঠেকল এসে পৃথিবীর ঘাটে, তোমার মা নিলেন কুড়িয়ে। কুসমি ভারি খুশি হয়ে বললে হাততালি দিয়ে, দাদামশায়, আচ্ছ, এ কি সত্যি । আমি বললুম, ঐ দেখো, কে বললে সত্যি, আমি কি সত্যিকে মানি । এ হল আরো-সত্যি । কুসমি বললে, আচ্ছা, আমি কি পরীস্থানে ফিরে যেতে পারব না। আমি বললুম, পারতেও পার, যদি তোমার স্বপ্নের পালে পরীস্থানের হাওয়া এসে লাগে । আচ্ছ, যদি হাওয়া লাগে তবে কোন রাস্তায় কোথা দিয়ে কোথায় যাব । সে কি অনে—ক দূরে । আমি বললুম, সে খুব কাছে। কত কাছে । যত কাছে তুমি আছ আর আমি আছি। ঐ বিছানার বাইরে যেতে হবে না। আর-একদিন জানলা দিয়ে পড়ুক এসে জ্যোৎস্না, এবার যখন তুমি ○ぐう