পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পসল্প ওগুলো দরকারি জিনিস, ঘণটাঘাটি কোরো না। কিন্তু— কী আর বলব। বললে, অনেক কাল দেখা সাক্ষাৎ হয় নি। শুরু করলে, আহা, আমাদের সেই ইস্কুলের দিন ছিল কী মুখের। গল্প লাগালে খোড়া গোবিন্দ ময়রার। দেখি, আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে আমার সোনা-বাধানো ফাউণ্টেন-পেনটা চাদরের আড়ালে ওর পকেটের দিকে। বললেই হত, ভুল করছ, কলমটা তোমার নয়, ওটা আমার । কিন্তু, আমি যে ভালোমানুষ, ভদ্রলোকের ছেলে— এতবড়ো লজ্জার কথা ওকে বলি কী করে। ওর চুরি-করা হাতটার দিকে চাইতেই পারলুম না। সন্দেহ করছি লোকটা বলে বসবে, আজ এখানেই খাব । বলতে পারব না, না, সে হবে না। ভাবতে ভাবতে ঘেমে উঠেছি। হঠাৎ মাথায় বুদ্ধি এল ; বলে বসলুম, রমেনের ওখানে আমাকে এখনি যেতে হবে। কালোকুত্তা বললে, ভালো হল, তোমার সঙ্গে একত্রেই যাওয়া যাক । ইস্কুল ছেড়ে অবধি তার সঙ্গে একবারও দেখা হয় নি। কী মুশকিল। ধপ করে বসে পড়লুম। বাইরের দিকে তাকিয়ে বললুম, বৃষ্টি পড়ছে দেখছি। ও বললে, তাতে হয়েছে কী। আমার ছাতা নেই, কিন্তু তোমার সঙ্গে এক ছাতাতেই যেতে পারব। আর কেউ হলে জোর করেই বলত, সে হবে না। কিন্তু, আমার উপায় নেই। তা, ভালোমানুষ হলেও বিপদে পড়লে আমার মাথাতেও বুদ্ধি জোগায় । আমি বললুম, অত অসুবিধা করবার দরকার কী। তার চেয়ে বরঞ্চ ছাতাটা তুমি নিয়ে যাও, যখনি সুযোগ হবে ফিরিয়ে দিলেই হবে। আর সে তিলমাত্র দেরি করল না। বললে, প্ল্যানটা শোনাচ্ছে ভালো । ছাতাটা বগলে করে চট্‌পট্‌ সরে পড়ল। ভয় ছিল, ফাউন্টেন-পেনের খোজ উঠে পড়ে। ছাতা ফেরাবার সুযোগ কোনোদিনই হবে না। হায় রে, আমার Fo२