পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


하 গজপ-গ্রগথাবলী ছেলে বলিল, “পাস হওয়া না আটকাতে পারে। কিন্তু শধ্যে পাস হলেই ত চলবে না মা ! গতবারে যেমন জলপানিটি পেয়েছিলাম, এবারও যাতে সেই রকম পেতে পারি সেই চেষ্টটাই করছি কিনা।” পড়াশনার প্রফুল্লর বরাবরই খবে আঠা।—অনা ছেলেদের যেমন "ওরে পড় রে ওরে গড় রে” বলিয়া তাগাদ করিতে হয়, প্রফুল্লকে কোনও দিন সেরাপ করিতে হয় নাই। ছাত্রাণাং অধ্যয়নং তপঃ-ছেলে আমার সে তপস্যায় কোনও দিন অবহেলা করে নাই। তাই আমি বলিলাম, “প্রফুল্ল যা বলছে তা ঠিক কথাই। আচ্ছা বাবা, পরীক্ষা হয়ে গেলেই তুমি এস। তোমার পড়ার বিঘা আমরা করতে চাই না।” ঘট প্রণাম করিয়া, আমাদিগকে প্রণাম করিয়া প্রফুল্ল শুভযাত্রা করিল। , প্রফুল্ল প্রতি রবিবার আমাকে একখানি করিয়া পত্র লেখে, সে পত্র আমি পাই সোমবার বেলা তিনটার সময়। শুক্লবারে জগদ্ধাত্রী পজা ছিল, শনিবার মা'র বিসঙ্জন, রবিবার প্রাতে গহিণী বলিলেন, রাত্রে প্রফুল্প-সম্বন্ধে একটা দঃস্বপ্ন দেখিয়া তাঁহার মন বড় খারাপ হইয়াছে। আমি বলিলাম, “জগন্ধাত্রী পজোর ছয়টিতে ফি-বছরই ছেলে বাড়ী অাসে. এবার আসেনি বলে আমার মনটাও খারাপ ছিল। তোমারও ছিল নিশ্চয় । সে জন্যেই ও রকম সবগুন দেখেছ-ও কিছ নয়, সে ভালই আছে, কোনও চিন্তা নেই।” গহিণী বলিলেন, “তোমার মুখে ফল চন্নন পড়কে, তাই যেন হয় ! কিন্তু তব, তুমি গিয়ে একবার তাকে দেখে এস।” বলিলাম, "আজ রবিবার, আমি বন্ধমানে গিয়ে ছেলেকে দেখে ফিরে আসতে কাল বেলা দপতরের কম ত নয়,—কাল সোমবার বেলা তিনটের সময় তার চিঠিই ত আসবে।” সমস্ত দিন গহিণীর মনটি বিষম হইয়া রহিল। সোমবার আহারাদি সারিতে বেলা একটা বাজিল। তামাক খাইয় গহিণীকে বলিলাম, "আমি যাই পোট আপিসে গিয়ে ছেলের চিঠি নিয়ে আসি। বেল। দেড়টার সময় রাণার ডাক আনে, তব দেড় ঘণ্টা আগে চিঠিখানা পাব।” বলিয়া আমি বাহির হইলাম। গ্রামেই পোস্ট আফিস আছে। ডাকবাব সমাদর করিয়া আমায় আপিস-ঘরে ডাকিয়া বসাইলেন। দেড়টা তখন বাজিয়া গিয়াছিল। শুনিলাম রাণার এখনও আসিয়া পৌঁছে নাই। দুইটা বাজিতে চলিল, তখনও রাণারের দেখা নাই। ডাকবাব বললেন, “ট্ৰেণ লেট থাকলে একটু দেরীও হয় ।” ঠিক যখন সওয়া দইটা, তখন বাহিরে রাণার আসিবার ঝমঝেম শব্দ শুনিতে পাইলাম। ডাক আসিল, ডাকবাব ব্যাগ কাটিলেন। ক্ষিপ্রহস্তে চিঠিগুলি পরীক্ষা করিয়া বলিলেন, “কই না, আপনার কোনও চিঠি ত নেই।” s ভগ্নমনে গহে ফিরিলাম। চিঠি আসে নাই শুনিয়া গাহিণী কাঁদিয়া ফেলিলেন তাঁহার চোখ মছোইয়া বলিলাম, “ছি ছি, চোখের জল ফেলতে আছে ? তাতে যে ছেলের অকল্যাণ হবে। আমি এখনই বন্ধমান রওয়ানা হচ্চি। সন্ধ্যা মাগাদ সেখানে পৌছব । আজ রাত্রের মধ্যেই ছেলের ভাল খবরটি তোমায় এনে দেবো। তুমি ধৈৰ্য্য ধর, আর ঠাকুরদের ডাক,—তাঁরা সমস্তই মঙ্গল করবেন।”—বলিয়া উদ্দেশে প্রণাম করিলাম। এক ঘণ্টার মধ্যেই গরর গাড়ীতে মেমরি যাত্রা করিলাম। বদ্ধমানে মহাজনটালীতে ঘর সব খালি। “প্ৰফুল্ল” বলিয়া ডাকিতে, একটি ছেলে বাহির হইয়া আসিল, সে আমার পরিচিত, আমাদের পাশের গ্রামেই বাস। তার নাম সরেন্দ্র, বাল্যকাল হইতে প্রকল্লর বিশেষ বন্ধ। আমাকে সে জোঠামশাই বলিয়া ডাকে। আমাকে দেখিয়াই, “জোঠামশাই যে " বলিয়া ছটিয়া আসিয়া প্ৰণাম করিল। বলিলাম, “ভাল আছ ত বাবা ? প্রফুল্ল কই ? সে কেমন আছে ?”