বলিলে যে ঠিকটি কী বুঝায় তাহা বিশ্লেষণ করিয়া বলা শক্ত। কিন্তু, মোটামুটি বলিতে গেলে রোমাণ্টিকের দিকটা বিচিত্রতার দিক, প্রাচুর্যের দিক, তাহা জীবনসমুদ্রের তরঙ্গলীলার দিক; তাহা অবিরাম গতিচাঞ্চল্যের উপর আলোকছায়ার দ্বন্দ্ব-সম্পাতের দিক; আর-একটা দিক আছে যাহা বিস্তার, যাহা আকাশনীলিমায় নির্নিমেষতা, যাহা সুদূর দিগন্তরেখায় অসীমতার নিস্তব্ধ আভাস। যাহাই হউক, কথাটা পরিষ্কার না হইতে পারে, কিন্তু আমি যখনই যুরোপীয় সংগীতের রসভোগ করিয়াছি তখনই বারম্বার মনের মধ্যে বলিয়াছি ইহা রোমাণ্টিক— ইহা মানবজীবনের বিচিত্রতাকে গানের সুরে অনুবাদ করিয়া প্রকাশ করিতেছে। আমাদের সংগীতে কোথাও কোথাও সে চেষ্টা নাই যে তাহা নহে, কিন্তু সে চেষ্টা প্রবল ও সফল হইতে পারে নাই। আমাদের গান ভারতবর্ষের নক্ষত্রখচিত নিশীথিনীকে ও নবোন্মেষিত অরুণরাগকে ভাষা দিতেছে; আমাদের গান ঘনবর্ষার বিশ্বব্যাপী বিরহবেদনা ও নববসন্তের বনান্তপ্রসারিত গভীর উন্মাদনার বাক্যবিস্মৃত বিহ্বলতা। —জীবনস্মৃতি। বিলাতি সংগীত
রবীন্দ্রনাথের প্রথম বয়সের কোন্ কোন্ রচনায় জ্যোতিরিন্দ্রনাথ সুর দিয়াছিলেন ‘গানের বহি ও বাল্মীকিপ্রতিভা’র সূচীপত্রে সংকেতে তাহা বিজ্ঞাপিত। তদনুসারে এবং ‘স্বরলিপি-গীতিমালা’ (১৩০৪) দেখিয়া যত দূর জানা যায়, নিম্নলিখিত রচনাবলীর সুরস্রষ্টা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ—
| গীতবিতান। পৃষ্ঠা | |
| অনেক দিয়েছ নাথ আমায়[১] | ১৬৭ |
| এত দিন পরে, সখী | ৮৮২ |
| এমন আর কত দিন চলে যাবে রে | ৯৪৭ |
| ওকি সখা, মুছ আঁখি | ৮৮২ |
| কে যেতেছিস আয় রে হেথা | ৮৯০ |
| খুলে দে তরণী[২] | ৮৭৭ |