পাতা:গুচ্ছ - কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়.djvu/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

পাগলের কথা।

আর কাহারও নহি, বর্ত্তমানে বা ভবিষ্যতে আমি তাঁহারই থাকিব, আর কেহ আমাকে অধিকার করিতে পরিবে না। লীলার কথাগুলি আমার কানে বাজিতেছিল, তখনও যেন লজ্জায় ঘৃণায় মরমে মরিয়া যাইতেছিলাম, সেই আমি অপরের হইতে চলিয়াছি। লীলা বলিয়া গিয়াছে সে ছায়ার মত আমার অনুসরণ করিবে, আমি তাহারই সম্পত্তি থাকিব, সহস্র বার বিবাহ করিলেও তাহার সহিত সম্বন্ধ লোপ হইবে না। আমি ত তাহাকে ভুলিয়াছি কিন্তু মরিয়াও সে আমাকে বিস্মৃত হয় নাই।

 তাহার কথা বলিতে গেলে ঐ রকম করিয়া চারিদিক লাল হইয়া আসে, চারিদিক কেন লাল হইয়া যায় বলিতে পারি না, আমার শিরায় শিরার কেন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় তাহা জানি না। সব বুঝিতে পারি, সমস্তই দেখিতে পাই, কিন্তু সময়ে সময়ে লালের হাত হইতে পরিত্রাণ পাই না। তবুও বলিতেছি তোমরা যাহা মনে করিয়া থাক তাহা সত্য নহে, আমি কখনও পাগল হই নাই। কি বলিতেছিলাম—বিবাহের কথা? নগদ দশ সহস্র রজতখণ্ড ও অর্দ্ধলক্ষাধিক মূল্যের অলঙ্কার মণ্ডিতা দশম বর্ষীয়া বালিকার পরিবর্ত্তে আত্মবিক্রয় করিতে পূর্ব্ববঙ্গে গিয়াছিলাম। নূতন শ্বশুরালয়ে যাইতে হইলে গোয়ালন্দ হইতে ষ্টীমারে গিয়া লৌহজঙ্গ হইতে নৌকা গ্রহণ করিতে হয়! যাইবার সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইয়াছিল, টিপি টিপি বৃষ্টি পড়িতেছিল! অশনি গর্জ্জনের মধ্যে সম্প্রদান কার্য্য সুসম্পন্ন হইয়া গিয়াছিল, কিন্তু বাসরে উল্লসিতা রমণীবৃন্দ যখন আনন্দোৎসবে উন্মত্ত হইয়া উঠিয়াছিল, তখন আমি যেন কাহার কলহাস্য শুনিতেছিলাম, কে যেন ঘরের চতুষ্পার্শ্বে অন্তরালে থাকিয়া আমাকে ব্যঙ্গ

১১