পাতা:গুপ্ত রহস্য - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুপ্ত-রহস্য।
২৭

প্রবেশ করিলাম। ঐ ঘরের মধ্যে যে লোহার সিন্দুক ছিল ও চুরি করিবার দিবস যাহার চাবি আমরা সঙ্গে করিয়া আনিয়াছিলাম মৃত দেহ লইয়া যাইবার কালীন ঐ চাবি আমি সঙ্গে করিয়া লইয়া গিয়াছিলাম। মৃত দেহের সহিত ঐ ঘরের ভিতর প্রবিষ্ট হইয়া ঐ চাবির দ্বারা ঐ সিন্ধুক খুলিলাম ও ঐ সিন্ধুকের ভিতর ঐ মৃত দেহ আস্তে আস্তে সংস্থাপিত করিয়া ঐ সিন্ধুকের চাবি বন্ধ করিলাম, ও চাবির সহিত পুনরায় ঐ সিঁদ পথে বহির্গত হইয়া ঐ চারিপায়ার সহিত সেই স্থান পরিত্যাগ করিলাম।

 প্রথম ব্যক্তি। এরূপ ভাবে ঐ মৃত দেহ ঐ স্থানে রাখিয়া আসিবার উদ্দেশ্য কি?

 দ্বিতীয় ব্যক্তি। বিনা উদ্দেশ্যে কি এই কার্য্য করিয়া আসিয়াছি? প্রথমতঃ এই সিঁদ চুরি মোকদ্দমার অনুসন্ধান নিশ্চয়ই পুলিশ করিয়াছে। পুলিশ নিশ্চয়ই এই ঘরের ভিতর প্রবেশ করিয়া ঐ ঘরের অবস্থা উত্তম রূপে দর্শন করিয়া গিয়াছে। হয় তো লোহার সিন্ধুক খুলিয়া লোহার সিন্ধুকের ভিতর কি আছে না আছে তাহাও দেখিয়া লইয়াছে; এরূপ অবস্থায় দশ পাঁচ দিবসের মধ্যে কে যে ঐ সিন্ধুক আর খুলিবে তাহা বোধ হয় না। দশ পাঁচ দিবস ঐ সিন্দুকের ভিতর ঐ মৃত দেহ থাকিলে ইহা পচিয়া প্রায় গলিয়া যাইবে। সেই অবস্থায় ঐ মৃত দেহ কেহ দেখিতে পাইলেও উহা যে কাহার মৃত দেহ তা জানিবার বা চিনিবার কোনরূপ উপায় থাকিবে না। মৃত দেহ সনাক্ত না হইলে আমাদিগের বিপদের আর কোন রূপ সম্ভাবনা থাকিবে না।

 দ্বিতীয়তঃ তারামণির ঘরে সিঁদ হইয়া চুরি হইয়াছে। তারামণি আমাদিগের এই স্থানে আবদ্ধ আছে সুতরাং তাহার পর আর