পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গোবিন্দ দাসের করচা জল হৈতে তারে যদি তুলি দাও তটে। তখন ডাঙ্গার বস্তু দেখিবে নিকটে ॥ সেইরূপ বিষয়েতে ডোবে যেই জন । কেমনে সে রাধাকৃষ্ণ করিবে দর্শন ॥ যাহার নয়নে মায়া ঠুলি আছে বাধা । ঘানির বলদ সম সৰ্ব্বদা সে আঁধা । পৰ্ব্বতের গুহা মধ্যে কি আছে কে জানে। বাহির হইতে তত্ত্ব জানিবে কেমনে ॥ সেইরূপ জড়জগতের স্বাক্ষভাব । কার সাধ্য স্থলভাবে করে অমৃভাব ॥ ঈশ্বরের মূৰ্ত্তি হয় অনস্ত ব্রম্ভাণ্ড । সেই বুঝে যেই জন ত্যজে কৰ্ম্মকাও ৷ জড়ভাব ছাড়ি যবে চৈতন্ত্যময় হবে। তখন কৃষ্ণের মূৰ্ত্তি দেখিতে পাইবে ॥ স্বতন্ত্র কৃষ্ণের ইচ্ছা জড়ে দিলা শক্তি । সেই দেখিবারে পায় যার অাছে ভক্তি ॥ জড়ে আর চেতন্তে গাইট লাগায়েছে। সে খুলিতে পারে যার রজস্তম গেছে। জড়জগতের ভাব কে পারে বুঝিতে। কলুর বলদ সম থাকয়ে ঘুরিতে। কলুর বলদ অল্প পথে ঘোরে বটে । কিন্তু সীমা নাহি পায় পড়িয়া সঙ্কটে ॥ চক্ষে ষ্টুলি এক পথে ঘুরে ঘুরে মরে । সেইমত জীব ঘোরে সংসার ভিতরে ॥ মায়াময় ঠুলি পরি জীব ঘুরে মরে। এ কারণ স্বল্পতত্ত্ব দেখিতে না পারে ॥ পরের বিষয়ে পর রমণী তেমন । কেমনে করিবে তবে কৃষ্ণের সাধন ॥ নিৰ্ব্বিকার-তত্ত্ব কৃষ্ণ বেদে ইহা কয়। সবিকার চিত্তে র্তারে ধরা নাহি যায় ॥ এইরূপে নানাদেশ করি প্রভু ধষ্ঠ । ধাইলা জলেশ্বরে দয়াল চৈতন্ত । বিল্বেশ্বর নামে শিব আছে জলেশ্বরে । তাহা দেখি উছলিলা ভকতি অস্তরে ॥ একই সন্ন্যাসী থাকে শিবের মন্দিরে । তাহার নিয়ড়ে প্রভু গেলা ধীরে ধীরে। ঙ্গাসীর সন্মুখে গিয়া প্রণাম করিলা । প্রভুরে হেরিয়া দ্যাসী চমকি উঠিলা ॥ স্বাসী বলে কে তুমি সামান্ত নর নহ। আমার সম্মুখে কেন প্রণাম করহ। আজি কোন পুণ্যফলে করিমু দর্শন । তোমারে হেরিয়া মোর কাটিল বন্ধন ৷ তপস্তার ফল তুমি ওহে দয়াময়। তোমারে হেরিয়া সব পাপ হইল ক্ষয় ॥ এইরূপে ন্যাসিবর প্র ভূরে হেরিয়া । প্রেমে তমু গদ গদ উঠিল কান্দিয়া ॥ অমনি আমার প্রভু আকার গোপিতে।* হরি বণি বাহু তুলে লাগিল নাচিতে ॥ কৃষ্ণ পলি বাপ দিয়া কখন দৌড়ায় । কখন পড়িয়া ভূমে গড়াগড়ি যায়। নাম সঙ্কীৰ্ত্তনে বহু জনতা হইল । জাগিয়: চৈতন্ত মোর রাত্রি কাটাইল ॥ পরদিন সুবর্ণরেখার ধারে গিয়া । পুলকি ত রঘুনাথ দাসেরে দেখিয়া ॥ অনস্তর হরিহরপুর মোরা যাই। সেথা গিয়া হরি নামে মাতিল নিমাই ॥ নাচিতে নাচিতে প্ৰভু অজ্ঞান হইল । আছাড় পাইয়। তবে ভূতলে পড়িল । এই রূপে সেই দিন অতীত হইলা । আনন্দে মাতিয়া প্রভু কান্দিতে লাগিলা । তার পর দিন মোরা যাই বালেশ্বরে । গোপালে হেরিয়া তথি আননা অস্তরে ॥

  • গোপিতে = গুপ্ত করিতে ।