পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/১১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গোবিন্দ দাসের করচা তার পরে বৈশাখের সপ্তম দিবসে । * দক্ষিণে করিলা যাত্রা ভাসি প্রেমরসে ॥ যাত্রার সময়ে নিত ষ্ট হইয়া চিন্তিত । কহিতে লাগিলা বাণী ভক্তিতে বিনীত ॥ না যাহ একাকী কহে নিত্যানন্দ যায় । সঙ্গে সঙ্গে যাই চল মোরা সমূদায় ॥ বড় ব্যস্ত যাইতে প্রাণের গদাধর । প্রেমানন্দ সরস্বতী ভারতী শঙ্কর ৷ এত শুনি প্রভূ মোর ঈষৎ হাসিয়া। বলে মুহি একা বাব সঙ্গী না লইয়া ॥ অবধৌত নিত্যানন্দ শুনিয়া বচদ । কহিতে লাগিল করি অশ্রু বরষণ । দক্ষিণযাত্রায় তুমি যাবে অতিদূর । সঙ্গে য’ক কৃষ্ণদাস ব্রাহ্মণ ঠাকুর । পবিত্র হইয়া বিপ্র তাহাই করিবে । যখন টঙ্কারে যাহা করিতে বলিলে । তোমারে ছাড়িয়। মোরা কেমনে রহিব । তাই বলি সবে মোরা তব সঙ্গে যাব ৷ এত শুনি মহাপ্রভু ঈষৎ হাসিয়া । বারণ করিলা সবে উপদেশ দিয়া ॥ সেই কথা শুনি সবে বলিতে লাগিল । তব সঙ্গে দাস তব গোবিন্দ চলিল । এত শুনি প্রভূ মোর কন হাসি হাসি । গোবিন্দের সঙ্গ আমি বড় ভালবাসি ॥ যে যাক সে নাহি যাক গোবিন যাইবে । আমার যে কাৰ্য্য তাহ গোবিন্দ করিবে । । এত বলি শ্রীচৈতন্য লইয়া বিদায় । চলিলা দক্ষিণ দিকে সব ভক্ত ধায়। • ।

  • "বৈশাখ প্রথমে দক্ষিণ যাইতে হৈল মন ।" - (চৈ, চ, মধ্য, ৭ ম পঃ ৫ । এখানে “বৈশাখ প্রথমে” ৷ অর্থ বৈশাখের প্রথম ভাগে ।
  • পুরীর বিবরণটা অতি সংক্ষিপ্ত। চৈতন্যভাগবত, চৈতন্য চশ্রোদয় প্রভৃতি পুস্তকে বিস্তৃত বিবরণ অাছে । ।

》 ক্রমে ক্রমে অtলাল নাথের শ্ৰীমন্দিরে । পৌছছিনু মোরা সব অতি ধীরে ধীরে ॥ আলালনাথেরে হেরি ভাল উথলিল । অশ্রু জলে সে স্থানের মাটি ভিজাই ল ৷ নাচিতে নাচিতে প্রভূ অজ্ঞান হইয়। পড়িলেন ভূমিতলে আছাড় খাইয়া ॥ পরদিন প্রাতে সবে লইয়া বিদায় । তিনজনে বাহিরিমু দক্ষিণ যাত্রায় ॥ এষ্টকালে সাৰ্ব্বভৌম বলে ধীরে ধীরে । মিলিবে রায়ের সঙ্গে গোদাবরী তীরে ॥ রসজ্ঞ ভক্তের শ্রেষ্ঠ রামানন্দরায় । ক্লষ্ণ নামে সদাসিক্ত নয়ন ধারায় ॥ বিশুদ্ধ আনন্দভোগ রামরায় করে। হরি নামে হয় তার আনন্দ অন্তরে ৷ ইহ শুনি গোদাবরী তারেতে ধাইল । সেই স্থানে রামানন্দ আসিয়া মিলিল । নবীন সন্ন্যাসী দেখি ভক্তি উপজিল । পদ ধরি বামরায় কান্দিতে লাগিল ॥ রামানন্দরায় বলে তুমি ত ঈশ্বর। দর্শন পাইমু মুহি বড় ভাগ্যধর ॥ প্রভূ কহে রায় তুমি কহ কৃষ্ণ কথা। তোমার সিদ্ধান্তে যাবে হৃদয়ের ব্যথা ॥ রায় বলে প্রভু মূঞি কিছুই না জানি। তুমি না বললে মোরে নাহি সরে বাণী । হৃদয়ে থাকিয়া তুমি সমস্ত পড়াও । মূকজনে কৃপা করি বাচাল করাও । প্রভূ কহে কোন তৰে শুদ্ধ হয় মন । রায় বলে সেই তত্ব সাধুর মিলন। তাছতেও স্বল্পতর চাই তব ঠাই। রায় কহে ত্যাগ বিচু আর তত্ত্ব নাই ॥ প্রভু কহে স্বক্ষ তত্ত্ব হয় অনুরক্তি । রাম কহে তাহ’তেও উচ্চ প্রেমভক্তি ॥