পাতা:গোবিন্দ দাসের করচা.djvu/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छूभिक br> পারিলাম না যে করচ, সম্বন্ধে আমার ধারণা ভ্রান্ত। ১৩৩২ সনের ১৩ই মাঘের পল্লীবাসী পত্রিকায় একজন লিখিয়াছেন “আমরা তাহার ( দীনেশ বাবুর ) দুই একটা ছাত্রকে জিজ্ঞাসা করিয়া দেখিয়াছি, এই ‘ করচা সম্বন্ধে তিনিও নিঃসন্দেহ নন, তথাপি দারুণ prestige বা বৃথা অভিমান তাহাকে এমন পাইয়া বসিয়াছে যে তিনি কিছুতেই সত্য স্বীকার করিতে পারিতেছেন না।” এই করচা সম্বন্ধে আলোচনায় মিথ্য যে কত অবয়বে উপস্থিত হইতেছে, তাহ আর কি লিখিব ? গোবিন্দ দাসের করচাখানি ৩০ বৎসর যাবত আমার অপরিহার্য্য সঙ্গী হইয়া আছে, ইহার প্রতি পত্রের উপর আমার শত শত অশ্রু বর্ষিত হইয়াছে। পদ্মফুল ফুটিলে যেরূপ সৌরভে দিক্‌ আমোদিত করে, করচা-প্রদত্ত মহাপ্রভুর কাহিনী তেমনি তাহার স্বৰ্গীয়-প্রেম ও লীলামধুরীতে ভরপুর। এই বই যে দিন প্রথম পড়িয়াছিলাম, সেদিন আমার একটা স্মরণীয় দিন। সেদিন আমার কর্ণে যে দেবলীলার গীতি শ্রত হইয়াছিল তাহার রেশ এখনও বাজিতেছে। করচা আমাকে চৈতন্যপ্রভুর যে স্বরূপ দেখাইয়াছে, অন্যত্র কোথাও তাহ পাই নাই। নানা জটিল অবতারবাদ স্থাপনের চেষ্টা ও কুহকের মধ্যে অন্তত্র মহাপ্রভুর জীবনের আভাস মাত্র পাওয়া যায়। কাদম্বিনীপংক্তির মধ্যে ক্ষণস্ফুরিত বিদ্যুদামের মত সেই আভাস পরক্ষণেই নানারূপ পাণ্ডিত্যপ্রদর্শনের চেষ্ট ও অবতারবাদের কুঞ্জটিকার মধ্যে বিলীন হইয়া পড়ে। কিন্তু ধ রচার এই প্রেমের পাগলকে একবার দেখুন। ইনি যেন এই ক্ষুদ্র পুস্তকখানির মধ্যে সম্পূর্ণ রূপে স্বপ্রকাশ হইয়াছেন । এই পুস্তক আমার নিকট মহাপ্রভুর পাদপিঠের বেদী স্বরূপ । আমার এই পুস্তক সম্বন্ধে দ্বিধা আছে—একথা নিতান্ত মিথ্যা ও অশ্রদ্ধেয় । আমি গোড়া বৈষ্ণব নহি ; এমন কি বৈষ্ণবই নহি—আমি শাক্ত। আমি কৰ্ম্মকার নহি, কায়স্থ নহি, আমি বৈদ্য । এই কৰ্ম্মকার—কায়স্থ লইয়। দলাদলিতে আমার কোন স্বার্থ নাই। আমি প্রভুর অলৌকিকী লীলা বুঝিতে ব্যস্ত নহি, তাহার জীবনের ইতিহাস আলোচনা করিতেছি মাত্র।. সুতরাং কোন স্বার্থে আমি এই পুস্তক সম্বন্ধে ভ্ৰম ধারণা বজায় রাখিতে পণ করিয়া বসিব ? অন্তান্ত পুস্তকে তাহাকে অলৌকিক দৈবশক্তি আরোপ করিয়া সাজাইবার চেষ্টা আছে, কিন্তু এখানে তাহার থাটি চিত্র দেখিতে পাই। “কিমপি হি মধুরাণাং মওনং নাকৃতীনাং ।” পদ্মকে কি সাজাইতে হয় ? গোলাপকে কি সাজাইতে হয় ? শতদলকে ভুজঙ্গ বেষ্টিত করিয়া দেখাইলে কি তাহার শোভা বৃদ্ধি পায় ? প্রেমের অবতারের সংহারক-বেশ কি স্বতঃসিদ্ধ দোষ গুষ্ট নহে? আমার এই ভূমিকা পড়িলেই বুৰিতে পারিবেন, কতটা প্রাণের ভালবাসা দিয়া আমি এই বই আস্বাদ করিয়াছি, ইহাতে জেদের কিছু পাইবেন কি ? আর কাঞ্চন নগরের কৰ্ম্মকারদিগের মধ্যে স্বগীয় জয়গোপাল গোস্বামীর কেহ শিষ নাই। পূৰ্ব্বকালে লোকে বই লিখিয়া কোন বড় লেখকের নামে চালাইতেন, छे