পাতা:গৌড়রাজমালা.djvu/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

গৌড়রাজমালা।

প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিল। এ পর্য্যন্ত এই স্তম্ভ-লিপিতে উক্ত পরবল ভিন্ন আর কোন রাষ্ট্রকূট-বংশীয়-পরবলের পরিচয় পাওয়া যায় নাই। এই নিমিত্ত, কোন কোন পণ্ডিত মনে করেন,—এই স্তম্ভলিপির পরবলই ধর্ম্মপালের পত্নী রণ্ণাদেবীর পিতা। এই অনুমানই সঙ্গত বলিয়া বোধ হয়। ধর্ম্মপাল দীর্ঘকাল সিংহাসনে আরূঢ় ছিলেন। খালিমপুরে প্রাপ্ত তাম্রশাসন তাঁহার “অভিবর্দ্ধমান-বিজয়-রাজ্যের ৩২ সম্বতে” সম্পাদিত হইয়াছিল; এবং তারানাথ লিখিয়াছেন, ধর্ম্মপাল ৬৪ বৎসর রাজত্ব করিয়াছিলেন। ৮১৫ সালে রাজ্যের আরম্ভ ধরিলে, তারানাথের মতানুসারে, ৮৭৯ খৃষ্টাব্দে ধর্ম্মপালের রাজত্বের অবসান মনে করিতে হয়। খালিমপুরের শাসনোক্ত ৩২ বৎসর, এবং জনশ্রুতির ৬৪ বৎসরের মধ্যে, ধর্ম্মপাল অন্যূন ৫০ বৎসর বা ৮৬৫ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত রাজত্ব করিয়াছিলেন, এরূপ অনুমান করা অসঙ্গত নহে। পক্ষান্তরে, [৮৬১ খৃষ্টাব্দে] পথরির লিপি সম্পাদনকালে, পরবল যে বার্দ্ধক্যে উপনীত হইয়াছিলেন, এরূপ মনে করিবার কারণ আছে। এই লিপিতে উক্ত হইয়াছে,—রাষ্ট্র-কূটবংশীয় জেজ্জ নামক নরপতির অগ্রজ অসংখ্য কর্ণ্ণাটসৈন্য পরাজিত করিয়া, লাটাখ্য রাষ্ট্র অধিকার করিয়াছিলেন। জেজ্জের পুত্র কর্ক্করাজ নাগাবলোক নামক নরপালকে পরাজিত, এবং তাঁহার রাজ্য আক্রমণ করিয়া, ধ্বস্তবিধ্বস্ত করিয়াছিলেন। পরবল এই কর্ক্করাজের পুত্র। ডাক্তার কিল্‌হর্ণ পথরি-স্তম্ভলিপির ভূমিকায় লিখিয়া গিয়াছেন,—তিনি ভৃগুকচ্ছে ৮১৩ সম্বতে [৭৫৬ খৃষ্টাব্দে] শ্রীনাগাবলোকের বিজয়রাজ্যে জনৈক চাহমান মহাসামন্তাধিপতি-সম্পাদিত একখানি তাম্রশাসনের ফটোগ্রাফ প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। এই তাম্রশাসন যদি প্রামাণ্য বলিয়। স্বীকৃত হয়, এবং পথরি-স্তম্ভলিপির নাগাবলোক এবং এই শাসনোক্ত নাগাবলোক যদি একই ব্যক্তি হয়, তবে কর্ক্করাজ এবং তদীয় পুত্র পরবলকে ৭৫৬ হইতে ৮৬১ খৃষ্টাব্দের মধ্যে স্থাপন করিতে হয়। আমাদের কাছে এখন যে কিছু প্রমাণ উপস্থিত, তাহার উপর নির্ভর করিয়া, ইহা ভিন্ন অন্য কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না; এবং নাগাবলোকের প্রতিদ্বন্দ্বী কর্ক্করাজের পুত্র পরবল [৮৬১ খৃষ্টাব্দে] দীর্ঘকালব্যাপী রাজত্বের পর, বার্দ্ধক্যে উপনীত হইয়াছিলেন, ইহাও স্বীকার করিতে হয়। সুতরাং পরবল এবং ধর্ম্মপাল প্রায় সমবয়স্ক ছিলেন, এবং ধর্ম্মপাল কর্ত্তৃক পরবলের কন্যার পাণিগ্রহণ অসম্ভব বোধ হয় না। ধর্ম্মপাল সম্ভবতঃ প্রৌঢ়াবস্থায় রণ্ণাদেবীর পাণিগ্রহণ করিয়াছিলেন। ধর্ম্মপাল ও রণ্ণাদেবীর পুত্র দেবপালও দীর্ঘকাল রাজত্ব করিয়াছিলেন। দেবপালদেবের [মুঙ্গেরে প্রাপ্ত] তাম্রশাসন তাঁহার রাজত্বের ৩৩ বৎসরে সম্পাদিত হইয়াছিল; এবং তারানাথ লিখিয়া গিয়াছেন,—দেবপাল ৪৮ বৎসর রাজত্ব করিয়াছিলেন। যৌবনে রাজ্যলাভ না করিলে, দেবপালদেবের পক্ষে এত দীর্ঘকাল রাজ্যভোগ ঘটিয়া উঠিত না। ধর্ম্মপালের মৃত্যুসময়ে দেবপালদেব যুবক ছিলেন, এই কথা স্বীকার করিলে, পরবলের প্রথম যৌবনে জাত দুহিতা রণ্ণাদেবীকে ধর্ম্মপাল প্রৌঢ়বয়সে বিবাহ করিয়াছিলেন,ইহা অনুমান করা যাইতে পারে। রাষ্ট্রকূট পরবলের পক্ষে বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করিয়া, ধর্ম্মপালের ন্যায় পরাক্রমশালী নৃপতির আশ্রয় গ্রহণ করিবার বিশেষ প্রয়োজন ছিল। রাষ্ট্ৰকূট-মহাসামন্তাধিপতি কর্ক্করাজ

২৪