পাতা:গৌড়রাজমালা.djvu/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
প্রথম বিগ্রহপাল।

তাম্রশাসনে যে প্রশস্তিকার ধর্ম্মপাল কর্ত্তৃক কান্যকুব্জ-বিজয় এবং দেবপালের আদেশে জয়পাল কর্ত্তৃক কামরূপ ও উৎকল-বিজয় বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন, বিগ্রহপালের সম্বন্ধে তেমন কিছু বলিবার থাকিলে তিনি যে তাহা না বলিয়া ছাড়িতেন, এরূপ বোধ হয় না। বিগ্রহপাল, ধর্ম্মপাল এবং দেবপালের প্রতিভা এবং উচ্চাভিলাষ উভয়েই বঞ্চিত ছিলেন। তিনি হৈহয় বা কলচুরি-রাজকুমারী লজ্জাদেবীর পাণিগ্রহণ করিয়াছিলেন। তৎকালে কলচুরি-রাজ কোক্কল্ল এবং তাঁহার পুত্রগণ এতই পরাক্রান্ত হইয়া উঠিয়ছিলেন যে প্রতিবেশী নৃপতিগণ তাঁহাদের সহিত সম্বন্ধ স্থাপন করিতে পারিলে, আপনাদিগকে কৃতার্থ মনে করিতেন। রাষ্ট্রকূট-রাজ দ্বিতীয় কৃষ্ণ কোক্কল্লের দুহিতার পাণিগ্রহণ করিয়াছিলেন, এ কথা পূর্ব্বেই উল্লিখিত হইয়াছে। দ্বিতীয় কৃষ্ণের পুত্র জগত্তুঙ্গ কোক্কল্লের দুই পৌত্রীর, এবং জগত্তুঙ্গের পুত্র রাষ্ট্রকূট-রাজ তৃতীয় ইন্দ্র কোক্কল্লের প্রপৌত্রীর পাণিগ্রহণ করিয়াছিলেন।[১] বিগ্রহপালের মহিষী লজ্জাদেবী সম্ভবতঃ কোক্কল্লের পুত্রী বা পৌত্রী ছিলেন। গোরখপুর জেলার অন্তর্গত কন্থল নামক স্থানে প্রাপ্ত কলুচুরি-রাজ সোঢ়দেবের ১১৩৬ বিক্রম-সম্বতের (১০৭৯ খৃষ্টাব্দের) একখানি তাম্রশাসনে মিথিলা বা ত্রিহুতের উত্তরদিকে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বতন্ত্র কলচুরি বা হৈহয়-রাজবংশের পরিচয় পাওয়া যায়। এই তাম্রশাসনে উক্ত হইয়াছে, সোঢ়দেবের ঊর্দ্ধতন ষষ্ঠ পুরুষ (অতিবৃদ্ধ-প্রপিতামহ) গুণাম্বোধিদেব বা গুণসাগর সংগ্রামে গৌড়লক্ষ্মী অপহরণ করিয়াছিলেন (“আহৃতা গোঁড়লক্ষ্মী”)।[২] গৌড়াধিপ বিগ্রহপালের সহিতই সম্ভবত গুণাম্বোধিদেবের যুদ্ধ হইয়াছিল। গৌড়েশ্বরী লজ্জাদেবী এই গুণাম্বোধিদেবের কন্যাও হইতে পারেন।

 বিগ্রহপালের মৃত্যুর পর, মহারাণী লজ্জার গর্ভজাত নারায়ণপাল পিতৃ-সিংহাসন লাভ করিয়াছিলেন। কেদারমিশ্রের পুত্র, হরগৌরীর গরুড়স্তম্ভ-প্রতিষ্ঠাতা গুরবমিশ্র, নারায়ণপালের মন্ত্রী ছিলেন। এই স্তম্ভলিপির একটি শ্লোকে (১৯) নারায়ণপল “বিজিগীষু” বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছেন। নারায়ণপালের রাজত্বের সপ্তদশ বৎসরে ভাগলপুরের তাম্রশাসন সম্পাদিত হইয়াছিল। এই শাসনের আটটি শ্লোকে নারায়ণপালের ন্যায়নিষ্ঠা, দানশীলতা, এবং সাধু-চরিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করা হইয়াছে; কিন্তু তিনি বিজিগীষু হইয়া, কোন্ দেশ আক্রমণ বা জয় করিয়াছিলেন, তাহার কোন উল্লেখ নাই।

 নারায়ণপালের পুত্র রাজ্যপালও শান্তিপ্রিয় ছিলেন। মহীপালের দীনাজপুর জেলার অন্তর্গত বাণনগরে প্রাপ্ত তাম্রশাসনে উক্ত হইয়াছে,—রাজ্যপাল “জলধিমূল-গভীরগর্ভ” জলাশয় এবং “কুলপর্ব্বততুল্য কক্ষবিশিষ্ট দেবালয়” নির্ম্মাণ করিয়া কীর্ত্তিলাভ করিয়াছিলেন। রাজ্যপাল রাষ্ট্ৰকূটতুঙ্গের কন্যা ভাগ্যদেবীর পাণিগ্রহণ করিয়াছিলেন। এই “তুঙ্গ” সম্ভবত দ্বিতীয় কৃষ্ণের পুত্র

  1. Epigraphia Indica, Vol. VIII, App. II, p. 3.
  2. Epigraphia Indica, Vol, VII, p. 85.

৩৩