পাতা:গৌড়ের ইতিহাস (প্রথম খণ্ড).djvu/১৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ষষ্ঠ অধ্যায়। S8ළු “গৌড়ং রাষ্ট্রমনুত্তমং নিরুপমা তত্ৰাপি রাঢ়াপুরী” এই রাঢ়াপুরী বলিতে রাঢ়ের কোন স্থান বুঝাইতেছে জানা যায় না । গ্রন্থকার দক্ষিণ রাঢ়াবাসীদিগকে দন্ত ও অহঙ্কারের বসতিস্থান বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন । কবি গৌড়বাসীদিগকে নানা স্থানে বিদ্রুপ করিয়াছেন। এই নাটকের চতুর্থাংশে লিখিত আছে ;--গৌড় রাজ্যান্তর্গত ভাগীরথী তীরস্থ রাঢ়ারাজ্যে চক্রতীর্থে মীমাংসানুগত মতি কর্তৃক ধাৰ্য্যমাণ প্রাণ বিবেক উপনিষদ সঙ্গমার্থ তপস্যা করিতেছেন। এই বর্ণনায় বোধ হয়, ভাগীরথী-তীরস্থ কোন স্থানে মীমাংসা দর্শনের সুন্দর আলোচনা হইত। বুকানন হামিলটন বলেন, পাল-রাজগণ ভূমিহার-জাতীয় ছিলেন । ভূমিস্থার-জাতীয়দিগকে বাভন বলে। উহা ব্রাহ্মণশব্দের পালরূপ। বৌদ্ধধৰ্ম্ম অবলম্বন করায়, সমাজে ব্রাহ্মণদিগের মত সম্মানভাজন ছিলেন না। বাভনেরা আপনাদিগকে মূৰ্দ্ধাভিষিক্ত বলেন। পাল-রাজগণের ক্রিয়া-কলাপ ক্ষত্রিয়গণের সহিত হইত। এই জন্ত বুকাননের মত সমীচীন বলিয়া বোধ হয় না । পাল-বংশীয়দিগের আত্মীয়-স্বজন পরে কায়স্থ-জাতির অন্তর্গত হইয়া গিয়াছে বলিয়া বোধ হয় । প্রাচীন বাঙ্গল গ্রন্থপাঠে জানা যায়, গৌড়েশ্বরকে বরেন্দ্র “অধিপতি", “কোচের রাজা”, “সল্লিপুরের রাজা”, “কেউঝড়ার রাজা, শিমুল্যর রাজা”, ময়নাগড় ও দলুইপুরের রাজ কর প্রদান করিতেন। রাজসৈন্তের মধ্যে চাড়াল ও বাগদী জাতীয় বিস্তর লোক ছিল । বৰ্ম্ম-বংশ । পালবংশীয়গণের রাজত্বকালের শেষভাগে তাহাদিগের অধীন যে সকল রাজবংশ সামন্তরাজস্বরূপ বাঙ্গলার ভিন্ন ভিন্ন খণ্ডে শাসনদণ্ড পরিচালনা করিতেন, তন্মধ্যে বৰ্ম্ম-বংশ বিশেষ উল্লেখ-যোগ্য । রাজেন্দ্রচোল