বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গ্রাম্য উপাখ্যান - রাজনারায়ণ বসু.pdf/১২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮২
গ্রাম্য উপাখ্যান।

অন্য সময়ে গ্রাম্য দলাদলিতে ও বন্ধুদিগের সহিত তাস খেলাতে যাপন করিতেন। হরিহর বসু উদ্যান-পালনকার্য্যে বিশেষ মনোযোগ প্রদান করিতেন। তিনি স্বহস্তে উদ্যানের ঘাস নিড়াইতেন, এবং বৃক্ষসকলের পরিবর্দ্ধনের উপায় করিয়া দিতেন। এবিষয়ে তিনি অনেকের আদর্শ স্থল হইতে পারেন। গ্রামের সকল লোকে তাঁহাকে হরিখুড়া বলিয়া ডাকিত, অতএব তিনি আমাদিগেরও খুড়া। আমাদিগের সেদিন বিলক্ষণ স্মরণ হয় যেদিন তিনি তাঁহার স্বহস্তে রোপিত বোম্বাই আমের গাছের প্রথম ফল আমাদিগকে খাওয়াইলেন। আমরা তাহাতে অত্যন্ত আহ্লাদ প্রকাশ করাতে তিনি বলিলেন, “অদ্য আমার পরিশ্রম সার্থক হইল।” ১২৭৪ সালে ম্যালেরিয়া জ্বরে তাঁহার মৃত্যু হয়। এই সময় হইতে বাদলগ্রামের মাঝের পাড়ার বসুরা আপনাদিগের পৈতৃক বাটী পরিত্যাগ করেন। তখন পৈতৃক বাটীতে যে কুলুপ পড়ে সে কুলুপ অনেক দিন খোলা হয় নাই। কয়েক বৎসর পরে রামনারায়ণ বাবু পৈতৃক বাটী দর্শন করিতে যান। সেই সময়ে তাঁহার মনে যে সকল ভাব উপস্থিত হয় তাহা বর্ণনা করিয়া তিনি একটী ক্ষুদ্র প্রবন্ধ লেখেন, সেই প্রবন্ধ আমরা পরে প্রকাশ করিব।

 আমরা পূর্ব্বে উল্লেখ করিয়াছি যে গ্রামে হরিহর বসুর আধিপত্যের প্রধান কারণ তাঁহার অসংখ্য সংস্কৃত শ্লোক মুখস্থ থাকা। এক্ষণে ভারতবর্ষের গ্রাম সকলে