পাতা:ঘর-পোড়া লোক (মধ্যম অংশ) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

ঘর-পােড়া লােক।

২৭


 হোসেন। আচ্ছা তাহাই হইবে। এই অনুগ্রহের নিমিত্ত আমি আপনাদিগকে একটা টাকা প্রদান করিতেছি।

 প্রহরী। এক টাকায় হইবে না, যদি আমাদিগের প্রত্যেককেই একটী করিয়া টাকা দেন, তাহা হইলে উহাদিগকে চারিপায়ার উপর বসিতে অনুমতি দিতে পারি।

 হোসেন। আচ্ছা, তাহাই দিতেছি।

 গোফুর। হোসেন! তুমি এরূপ ভাবে অনর্থক অর্থ ব্যয় করিতেছ কেন?

 হোসেন। এ ব্যয় অনর্থক নহে। বলুন দেখি, ইতিপূর্ব্বে আর কখনও আপনারা মৃত্তিকায় বসিয়াছেন কি?

 গোফুর। এখন আর আমি সেই জমিদার গোফুর খাঁ নহি যে, চারিপায়া ভিন্ন বসিতে পারি না।

 হোসেন। আপনি এখনও সেই গোফুর খাঁ আছেন, ইহা বেশ জানিবেন।

 গোফুর। তাহা হইলে আমাদিগকে এই মিথ্যা মোকদ্দমায় আর ফাঁসি যাইতে হইত না!

 হোসেন। আপনি ভাবিবেন না। উপরে কি ভগবান নাই? আপনাদিগকে কখনই ফাঁসি যাইতে হইবে না। আপনার মনকে স্থির করুন, দেখুন, আপনাদিগকে বাঁচাইয়া লইয়া যাইতে পায় কি না। দুই তিন দিবস আপনাদিগের স্নান হয় নাই, আজ স্নান করিবেন কি?

 গোফুর। আর স্নান করিয়াই বা কি হইবে?

 হোসেন। স্নান করিয়া অনেক ফল হইবে। স্নান করিলে শরীরের অনেক গ্লানি দূর হইবে, মস্তিষ্ক শীতল হইবে, তখন