পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>br চতুরঙ্গ আমার তো পয়সা নাই। জ্যাঠামশায় উহাদের নিমন্ত্রণ করিয়া ছেন ।” পুরন্দর রাগিয়া ছট্‌ফট্‌ করিয়া বেড়াইতেছিল। সে বলিতেছিল, “কেমন উহার এ বাড়িতে আসিয়া খায় আমি দেখিব।” হরিমোহন দাদার কাছে আপত্তি জানাইলে জগমোহন কহিলেন, “তোমার ঠাকুরের ভোগ তুমি রোজই দিতেছ, আমি কথা কই না— আমার ঠাকুরের ভোগ আমি একদিন দিব, ইহাতে বাধা দিয়ে না।” “তোমার ঠাকুর ?” “হা, আমার ঠাকুর ।” “তুমি কি ব্রাহ্ম হইয়াছ ।” “ব্রাহ্মরা নিরাকার মানে, তাহাকে চোখে দেখা যায় না । তোমরা সাকারকে মান, তাহাকৈ কানে শোনা যায় না । আমরা সজীবকে মানি, তাহাকে চোখে দেখা যায়, কানে শোনা যায়— তাহাকে বিশ্বাস না করিয়া থাকা যায় না ।” “তোমার এই চামার মুসলমান দেবতা ?” “হা, আমার এই চামার মুসলমান দেবতা । তাহাদের আশ্চর্য এই এক ক্ষমতা প্রত্যক্ষ দেখিতে পাইবে তাহাদের সামনে ভোগের সামগ্ৰী দিলে তাহারা অনায়াসে সেটা হাতে করিয়া তুলিয়া খাইয়া ফেলে। তোমার কোনো দেবতা তাহ পারে না। আমি সেই আশ্চর্য রহস্য দেখিতে ভালোবাসি, তাই আমার ঠাকুরকে আমার ঘরে ডাকিয়াছি ; দেবতাকে দেখিবার চোখ যদি তোমার অন্ধ না হইত, তবে তুমি খুশি হইতে ”