পাতা:চতুরঙ্গ - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যাঠামশায় ૨છે মাঝামাঝি প্রাচীর উঠিয়া গেল। ধর্ম সম্বন্ধে যেমনি হউক, খাওয়া-পরা টাকাকড়ি সম্বন্ধে মানুষের একটা স্বাভাবিক সুবুদ্ধি আছে বলিয়া মানবজাতির প্রতি হরিমোহনের একটা শ্রদ্ধা ছিল । তিনি নিশ্চয় ঠাওরাইয়াছিলেন, র্তার ছেলে এবার নিঃস্ব জগমোহনকে ছাড়িয়া অন্তত আহারের গন্ধে তার সোনার খাচাকলের মধ্যে ধরা দিবে। কিন্তু বাপের ধর্মবুদ্ধি ও কর্মবুদ্ধি কোনোটাই পায় নাই, শচীশ তার পরিচয় দিল । সে তার জ্যাঠার সঙ্গেই রহিয়া গেল । জগমোহনের চিরকাল শচীশকে এমনি নিতান্তই আপনার বলিয়া জানা অভ্যাস হইয়া গিয়াছিল যে, আজ এই ভাগাভাগির দিনে শচীশ যে তারই ভাগে পড়িয়া গেল ইহাতে র্তার কিছুই আশ্চর্য বোধ হইল না । কিন্তু হরিমোহন র্তার দাদাকে বেশ চিনিতেন । তিনি লোকের কাছে রটাইতে লাগিলেন যে, শচীশকে আটকাইয়া জগমোহন নিজের অন্নবস্ত্রের সংস্থান করিবার কৌশল খেলিতেছেন। তিনি অত্যন্ত সাধু হইয়া প্রায় অশ্রুনেত্রে সকলকে বলিলেন, “দাদাকে কি আমি খাওয়া-পরার কষ্ট দিতে পারি। কিন্তু তিনি আমার ছেলেকে হাতে রাখিয়া এই-যে শয়তানি চাল চালিতেছেন, ইহা আমি কোনোমতেই সহিব না। দেখি তিনি কতবড়ে চালাক ।” কথাটা বন্ধুপরম্পরায় জগমোহনের কানে যখন পৌঁছিল তখন তিনি একেবারে চমকিয়া উঠিলেন। এমন কথা যে উঠিতে পারে তাহা তিনি ভাবেন নাই বলিয়া, নিজেকে নির্বোধ বলিয়া