পাতা:চিঠিপত্র (ঊনবিংশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“...পরদিন ১লা আশ্বিন ১৭ই সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে নয়টায় কলিকাতা পৌছিলাম। অপরাহ্নোহ্ল] টেলিফোনে জোড়াসাঁকোয় খবর করিতেই সঙ্গে সঙ্গে আহ্বান আসিল। বেলা চারটায় পৌছিলাম, তাহাকে সুস্থ দেখাইতেছিল না, চোখ এবং কান খুবই খারাপ হইয়াছে, তবু দেখি প্রস্তুত হইয়া আছেন—তাহার সদ্য-লেখা “ল্যাবরেটরি’ গল্প আমাকে পড়িয়া শুনাইবেন। আমি শঙ্কিত হইলাম, তাহার পরিজনদের কাছে কেমন একটা সঙ্কোচও বোধ হইতে লাগিল, তবু শুনিতে হইল। দেখিলাম, এই বয়সে অসুস্থ শরীরে অসাধ্য সাধন করিয়াছেন, বাংলা সাহিত্যে সম্পূর্ণ নূতন এক নারী চরিত্র সোহিনীর আবির্ভাব হইয়াছে। আমার কথায় কবি ছেলেমানুষের মতো খুশী হইয়া উঠিলেন। (‘আত্মস্মৃতি’, পৃ. ৫৫৫) যদিও চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ‘অক্টোবরে পাহাড়ে পালাবার কথা লিখেছিলেন কিন্তু বিকল দেহ ও চঞ্চল মনে তার পক্ষে কলকাতায় থাকা সম্ভব হয়নি। ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪০, সুধাকান্ত রায়চৌধুরী সমভিব্যাহারে কালিম্পঙের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। মাত্র সপ্তাহকাল অতিবাহিত হতে-না-হতেই প্রচণ্ড ইউরিমিয়ার প্রকোপে আক্রান্ত হয়ে কবিকে শয্যাগত অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল কলকাতায়। জোড়াসাঁকোর ‘পাথরের ঘরে একমাসের অধিককাল কবি জীবনমরণের সন্ধিক্ষণে প্রায় আচ্ছন্নের মতো ছিলেন। ১৮ নবেম্বর ১৯৪০ শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অবস্থাতেই কবি সৃষ্টি করলেন— ‘রোগশয্যায়’, ‘আরোগ্য’, ‘জন্মদিনে ও ‘গল্পসল্প’। সজনীকান্ত ১৯৪০ নবেম্বর থেকে ১৯৪১ মে এই ছয় মাস সভাসমিতি নিয়ে বাংলাদেশের জেলায় জেলায় ভ্রমণে ব্যস্ত ছিলেন। তবু এরই মধ্যে ১৯৪১ জানুয়ারি মাসে শান্তিনিকেতনে গিয়ে > ○○