পাতা:চিঠিপত্র (দ্বাদশ খণ্ড)-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিশ্বাস বৰ্ত্তমান ইতিহাসকে সত্যভাবে প্রত্যক্ষ করা তাদের অসাধ্য | যদি পণ্ডিত সরকার মশায় এমন কথা বলেন যে উপনিষদের প্রভাব আমার মনের উপর অাছে এবং আধুনিক কালের প্রভাব থেকেও আমার মন মুক্ত নয়, তবে সে কথা আমি গৌরবের সঙ্গেই স্বীকার করব । কিন্তু যে চিত্ত বৰ্ত্তমান ও তীতকালের অনুপ্রেরণাকে গ্রহণ করেচে তার তো একটা নিজের স্বাতন্ত্র্য থাকে – সে তো একটা জোড়া দেওয়া সঙ্কলন ব্যাপার নয় । মাছের ঝোল যে খায় তার দেহের মধ্যে মাছের ঝোলের মাছ এবং তার আলু কাচকলা এক সঙ্গেই কাজ করতে থাকে – তার পটোলের অংশ পাটোলিক ও মাগুর মাছের অংশ মাগেীরিক ভাবে জোড়াদে ওয়া রূপে কাজ করেন । অবশ্য যে-ঝুড়িতে মাগুর মাছ ও আলু পটল আনা হয় সেই ঝুড়িতে ঐ উদ্ভিদ ও জলচর একত্র হয় কিন্তু একীকৃত হয় না । আমার বিদ্যালয়টা ঝুড়ি নয় আশা করি সে কথা বলা বাহুল্য । ঐতিহাসিক মশায়কে আমার মতো লোকের এ কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়াই ধৃষ্টত যে, পৃথিবীতে যত বড় বড় সভ্যতা, এমন কি বড় বড় কৰ্ম্মী ও গুণী জন্মেচে তাদের প্রকৃতিতে নানা প্রভাবসঙ্করতা ঘটেচে কিন্তু তৎসত্ত্বেও তাদের সৃষ্টির মধ্যে স্বষ্টিকারী চিত্তের অখণ্ড স্বাতন্ত্র্যই প্রকাশ পেয়েছে। শেক্সপিয়রকে ঐতিহাসিক ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করে দেখলে দেখা যেতে পারে তার কত অংশ গ্রীক, কত অংশ খৃষ্টান, কত অংশ রোমান, কত অংশ কেণ্টিক, স্যাক্সন ও এলিজাবীথিয় ר צ צ