বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/২০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮
জাতিভেদ।

আর একটী প্রমাণ দেওয়া যাইতেছে। বৃহদারণক্য উপনিষদে আছে—

 “ব্রহ্মবা ইদমগ্রে আসীৎ একমেব, তদেকং সৎ নব্যভবৎ। তচ্ছ্রেয়ো রূপং অত্যসৃজত ক্ষত্রং।”

 অর্থ - অগ্রে একমাত্র ব্রাহ্মণ জাতিই ছিল। ঐ জাতি একাকী বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইল না— সুতরাং সেই শ্রেষ্ঠ বর্ণ (ব্রাহ্মণ) ক্ষত্রকে সৃষ্টি করিলেন।” যাঁহারা বেদ বা স্মৃতি কিছুমাত্র পাঠ করিয়াছেন তাহারা জানেন যে ব্রহ্ম শব্দ ব্রাহ্মণ অর্থে ভূরি ভূরি স্থলে প্রয়োগ হইয়াছে; এখানে ব্রহ্ম শব্দের অর্থ ব্রাহ্মণ। উপনিষদ অতি প্রাচীন গ্রন্থ, এতদ্দেশে ইহা 'বেদ বলিয়া আদৃত সুতরাং দেখুন আমি জাতিভেদের উৎপত্তির যে বিবরণ দিতেছি তাহার প্রমাণ বেদের মধ্যেই প্রাপ্ত হওয়া যাইতেছে।

 দেখুন তবে কেমন করিয়া প্রাচীন আর্য্য-সমাজে শূদ্র ও ক্ষত্র দুইটী জাতির সূত্রপাত হইল। এখন প্রশ্ন হইতে পারে অবশিষ্ট আর্য্যগণ কি করিতে লাগিলেন। তাঁহাদের মধ্যে কিয়দংশ লোককে একটী গুরুতর কার্য্যে নিযুক্ত হইতে হইল। সে কার্য্যটী কি? আপনারা স্মরণ রাখিবেন যে, যে সময়ে বেদের প্রাচীন মন্ত্র সকল রচিত হইয়াছিল, সে সময়ে লিখিবার প্রথা প্রচলিত হয় নাই; সুতরাং সে সময়ে ঐ সকল মন্ত্র কণ্ঠস্থ করিয়া রাখিতে হইত। আর্য্যেরা যখন ভারতবর্ষে প্রবেশ করেন তাহার পূর্ব্বাবধিই তাঁহাদের