বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:জাতিভেদ - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৫০
জাতিভেদ।

দিন ঘোর দারিদ্র্যে নিপতিত হইতেছে এবং তাহাদের সংখ্যা ক্রমে হ্রাস হইয়া যাইতেছে। এই কারণে দারজিলিঙ্গে লেপচাদিগের সংখ্যাও বোধ হয় হীন হইতেছে। অপর দিকে ব্রহ্মদেশের দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করা যায়। ব্রহ্মদেশবাসীগণের মধ্যে জাতিভেদ নাই। কোন ব্রহ্মদেশীয় রমণী যদি একজন ইউরোপীয়ের সহিত পরিণীতা হয়, তাহা হইলে তাহাকে জাত্যংশে হীন হইতে হয় না। বৈধব্য হইলে বা কোন কারণে সে বিবাহ সম্বন্ধ বিচ্ছিন্ন হইলে সে রমণী পুনরায় আপনার জ্ঞাতি-কুটুম্বের মধ্যে অবাধে স্থান প্রাপ্ত হইয়া থাকে। এইরূপে ব্রহ্মদেশবাসী অনেক ইউরোপীয়ের ব্রহ্মদেশীয়া স্ত্রী আছে। কই ব্রহ্মদেশীয়েরা ত এই কারণে উৎসন্ন যাইতেছে না।

 যাহা হউক এক্ষণে জাতিভেদের অনিষ্টফল কি কি ঘটিয়াছে তাহা একবার চিন্তা করিয়া দেখ যাউক।

 প্রথম অনিষ্ট ফল। এই প্রথা ভারত-ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ ও অনাত্মীয়তার বীজ বপন করিয়াছে। ইহারই জন্য, “মানুষ মানুষের ভাই” এই মহাসত্য ভারতবাসীর মনে আপনার বল প্রকাশ করিতে পারে নাই। এই প্রথা নিবন্ধন এক প্রদেশের ও এক জেলার ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় লোকের রীতি-নীতি আচার-ব্যবহার, বিভিন্ন প্রকার। পরস্পরের সহিত কোন প্রকার সামাজিক সম্বন্ধ নাই, সুতরাং আত্মীয়তা বৃদ্ধি হইবার উপায় নাই। চিন্তা করিয়া দেখ এই সহরের ব্রাহ্মণ কায়স্থ-