পাতা:জাপানে-পারস্যে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১২৪
জাপানে-পারস্যে

 যুদ্ধজয়ের পরে কামালপাশা যখন স্মির্ণা শহরে প্রবেশ করলেন সেখানে একটি সর্বজন-সভা ডেকে মেয়েদের উদ্দেশে বললেন, “যুদ্ধে আমরা নিঃসংশয়িত জয়সাধন করেছি কিন্তু সে জয় নিরর্থক হবে যদি তােমরা আমাদের আনুকূল্য না কর। শিক্ষার জয়সাধন কর তােমরা, তাহলে আমরা যতটুকু করেছি তােমরা তার চেয়ে অনেক বেশি করতে পারবে। সমস্তই নিস্ফল হবে যদি আধুনিক প্রাণযাত্রার পথে তােমরা দৃঢ়চিত্তে অগ্রসর না হও। সমস্তই নিস্ফল হবে যদি তােমরা গ্রহণ না কর আধুনিক জীবননির্বাহ-নীতি তােমাদের উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে।”

 এ যুগে য়ুরােপ সত্যের একটি বিশেষ সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছে। সেই সাধনার ফল সকল কালের সকল মানুষের জন্যেই, তাকে যে না গ্রহণ করবে সে নিজেকে বঞ্চিত করবে। এই কথা এশিয়ার পূর্বতমপ্রান্তে জাপান স্বীকার করেছে এবং পশ্চিমতম প্রান্তে স্বীকার করেছে তুরুস্ক। ভৌতিক জগতের প্রতি সত্য ব্যবহার করা চাই এই অনুশাসন আধুনিক বৈজ্ঞানিক যুগের, না করলেই বুদ্ধিতে এবং সংসারে আমরা ঠকব। এই সত্য ব্যবহার করার সােপান হচ্চে মনকে সংস্কারমুক্ত করে বিশুদ্ধ প্রণালীতে বিশ্বের অন্তর্নিহিত ভৌতিক তত্ত্বগুলি উদ্ধার করা।

 কথাটা সত্য। কিন্তু আরাে চিন্তা করবার বিষয় আছে। যুরোপ যেখানে সিদ্ধিলাভ করেছে সেখানে আমাদের দৃষ্টি পড়েছে অনেকদিন থেকে, সেখানে তার ঐশ্বর্য বিশ্বের প্রত্যক্ষণােচর। যেখানে করে নি, সে জায়গাটা গভীরে, মূলে, তাই সেটা অনেককাল থেকে প্রচণ্ড রইল। এইখানে সে বিশ্বের নিদারুণ ক্ষতি করেছে এবং সেই ক্ষতি ক্রমেই ফিরে আসছে তার নিজের অভিমুখে। তার যে-লােভ চীনকে আফিম খাইয়েছে সে লােভ তত চীনের মরণের মধ্যেই মরে না। সেই নির্দয় লােভ প্রত্যহ তার নিজেকে মােহান্ধ করছেই, বাইরে থেকে সেটা আমরা স্পষ্ট দেখি